স্বাস্থ্যসচিব-ডিজিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিকের উৎপাদন বন্ধে ২০১৭ সালের নির্দেশনা অমান্য করায় স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল বাসার মো. খুরশীদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলুরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
অপর তিন জন হলেন-ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বাবলু কুমার সাহা, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান ও ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক।
রুলে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমোদন সংক্রান্ত নির্দেশ অমান্য করায় ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, চার সপ্তাহের মধ্যে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আদালতকে বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। এটি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে 'ব্যর্থ' ২০ কোম্পানির সব ওষুধ এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডসহ ১৪টি কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন।
অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার 'গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস' (জিএমপি) নীতি না মেনে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন না করতে পারে এটি পর্যবেক্ষণের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন ও বিক্রি করে মানুষের ক্ষতি করছে।
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অ্যান্টিবায়োটিকের উৎপাদন চালিয়ে গেলেও, ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বা অন্যান্যরা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এটি হাইকোর্টের নির্দেশের প্রতি অসম্মান, আদালতের অবমাননা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।