হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তারে গিয়ে আরেক মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বির হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে ইজিবাইকসহ আরেক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার থেকে সাব্বির হত্যায় জড়িত মো. আছমত শেখ (১৯) ও তার ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এসময় তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের সময় ইজিবাইকটির মালিক চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালেরটিরা গ্রামের বাসিন্দা নাইম শেখকে (১৫) হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দুই ভাই।
আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান।
তিনি জানান, গত ২ এপ্রিল স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধারের পরদিন তার বাবা মো. আলমগীর বিশ্বাস (৪২) বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা করেন।
সাব্বিরের বাবা আলমগীর বিশ্বাস ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশা চালান। তার ৪ ছেলের মধ্যে মেজো ছেলে মো. সাব্বির বিশ্বাস(১৪) নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মার চর হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়তো। অর্থকষ্টের কারণে মাঝে মাঝে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতো সাব্বির।
পুলিশ জানায়, সাব্বির হত্যার তদন্ত করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামি মো. আছমত শেখ (১৯) ও তার ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইকে গ্রেপ্তারের পর একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর দুই ভাই জানান, গত বুধবার দুপুরে ঘোরার কথা বলে গোয়ালেরটিলা গ্রামের ইজিবাইকটির চালক নাইম শেখকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন তারা। নাইম শেখ ইজিবাইক নিয়ে তাদের বাড়িতে আসার পর সাগর মোল্লা নামে আরেকজন সেখানে আসেন। পরে তারা নাইমকে হত্যা করে তার ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের পকিল্পনা করেন। হত্যার পর নাইম এর মরদেহ বস্তাবন্দি করে মাটিচাপা দেন তারা। এরপর তারা নাইম শেখের ইজিবাইকটি বিক্রি করতে কোতয়ালী থানাধীন গজারিয়া বাজারে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামি আছমত শেখ স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বিরকে হত্যা করার কথাও স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানায়, আছমত শেখ, তার ছোট ভাই ও সাগর মোল্লা মিলে পরিকল্পনা করে গত ১ এপ্রিল দুপুরে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের খলিল মণ্ডলের হাট থেকে সাব্বির বিশ্বাস (১৪) এর রিকশা ভাড়া করে বিভিন্ন জায়াগায় ঘোরাফেরা করে। পরে কোকের মধ্যে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে তাকে পান করায়। এরপর গভীর রাতে অম্বিকাপুর ইউনিয়নের উত্তর দয়ারামপুর গ্রামে একটি ঘাসখেতে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে সেখানে মরদেহ ফেলে রেখে রিকশা নিয়ে চলে যায়।
২ এপ্রিল সকালে তারা রিকশাটি ফরিদপুর খোদা বক্স সড়কে খোন্দকার মঞ্জুর আলীর কাছে বিক্রি করে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই ভাই স্কুল শিক্ষার্থী রিকশাচালক মো. সাব্বির বিশ্বাস ও ইজিবাইক চালক নাইম শেখ হত্যার দায় স্বীকার করে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুর ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে দুই ভাইকে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।