হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীর স্বজনকে ছুরিকাঘাত

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীর স্বজনকে ছুরিকাঘাত করেছেন এক যুবক। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। 

ছুরিকাঘাতে আহত মো. রাসেল (৩৮)-কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

হাসপাতালে ভর্তি রাসেলের স্ত্রী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দায়িত্বরত একজন নার্সের সঙ্গে রাসেলের কথা কাটাকাটির জেরে ওই নার্স বাইরে থেকে কয়েকজনকে ডেকে এনে তার স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে। 

হাসপাতালের প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শহরের টেপাখোলা বৃন্দাবনের মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল তার স্ত্রী হীরাকে নিয়ে গত ৩ দিন ধরে ফরিদপুর সদর হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। হীরার চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করতে বলে কিন্তু সন্ধ্যায় হাসপাতালের প্যাথালজি ল্যাব বন্ধ ছিল। তাই বাইরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য নার্সকে সিরিঞ্জে করে রক্ত টেনে দিতে বলেন রাসেল। দায়িত্বরত নার্স ইলা সিকদার রক্ত টেনে দেওয়া তার দায়িত্ব নয় বলে জানিয়ে রাসেলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এই সময়ে রাসেল ওই নার্সকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'সরকারি বেতন খান, রক্ত টানবেন না কেন। এতে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ইলা শিকদার নার্স সুপারভাইজারের কাছে রাসেলের নামে নালিশ জানান। একইসঙ্গে শহরের খাবাসপুর এলাকার যুবলীগ কর্মী দেবাশীষ নয়নকে ফোন করে ডেকে আনেন।' 

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, রাসেল নার্সিং সুপারভাইজারের কাছে দুঃখ প্রকাশ কর ওয়ার্ডে গিয়ে তার স্ত্রীর শয্যার পাশে বসেন। তখন দেবাশীষ নয়ন ও তার সঙ্গে থাকা আরও ২-৩ জন ওয়ার্ডের মধ্যে ঢুকে রাসেলের বুকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়। 

খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। 

এ বিষযে নার্সিং সুপারভাইজার জহুরা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রোগীর স্বজন ও নার্সের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। সেটা মিটমাটও করেছি। কিন্ত পরে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় নার্স ইলা জড়িত কি না সেটা আমার জানা নেই।' 

কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আহত রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।'

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এতদিন জানতাম বাইরের লোকজন এসে চিকিৎসক-নার্সদের মারধোর করে। এবার নার্সের লোক এসে ওয়ার্ডের ভিতরে রোগীর স্বজনদের চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, 'যা শুনেছি তাতে বোঝা গেছে রক্ত টানা নিয়ে নার্স ইলা শিকদারের সঙ্গে রাসেলের কথা কাটাকাটি হয়। ইলা শিকদার ফোন করে বাইরে থেকে লোক ডেকে ওয়ার্ডের ভেতরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটনায়।'

সিভিল সার্জন বলেন, 'এ ঘটনার পর ইলা শিকদার আত্মগোপন করেছেন। তার স্বামীর মুঠোফোনে ফোন করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।'

সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান আরও বলেন, 'ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। জানতে পেরেছি রাসেলের অস্ত্রপচার চলছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।'