১৬ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজেস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. জসিম উদ্দিন (৪২)-কে ১৬ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, 'রোববার রাতে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিন কুমিল্লার ভোলাইন এলাকার আমিনুল হকের ছেলে।'

তিনি বলেন, '২০০৪ সালের ২৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে যাওয়ার সময় আবুল কাশেম ও আবুল বাশার জালকুড়ি সিমা ডাইং মিলের সামনে পৌঁছালে আসামি হুমায়ুন, জসিম ও অর্জুন মোটরসাইকেলে করে গিয়ে তাদের বেবি ট্যাক্সির গতিরোধ করে গুলি করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামি হুমায়ুন ও জসিম আবুল কাশেমের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করলে আবুল কাশেম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর আবুল বাশারের ডান কাঁধে গুলি করলে সে গুরুতর আহত হন।'

'এ ঘটনায় ২০০৪ সালের ২৯ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী রেজিয়া বেগম। এরপর থেকে পলাতক ছিলেন জসিম। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে এসআই মো. জাহির হোসেন আসামি মো. হুমায়ুন (২৪) ও মো. জসিম উদ্দিন (২৬)-সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।'

পরে ২০০৬ সালের ২১ মে পলাতক আসামি জসিম উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১-এর আদালতের বিচারক আসামি জসিমকে (২৮) দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

তিনি আরও বলেন, 'মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অপর আসামি হুমায়ুন ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোহন ও মনির বর্তমানে জেল হাজতে আছেন।'

ওসি মশিউর রহমান বলেন, 'আমি আমার পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে জসিমকে গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করি। প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আদমজী এলাকায় তার খোঁজ জানার চেষ্টা করি। এত বছর আগের ঘটনা হওয়ায় এবং সে পলাতক থাকায় তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তাকে খোঁজার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে আমরা জানতে পারি, জসিম কুমিল্লায় তার গ্রামে অবস্থান করছে এবং সে সেখানে সিএনজি অটোরিকশার চালক হিসেবে কর্মরত আছে। আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করি।'