শিশু হত্যা মামলায় আদালতে অনুপস্থিত

১৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আইজিপিকে

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

শিশু হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৯ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আজ বৃহস্পতিবার পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল রাজধানীর শাহজাহানপুরে একটি ওভারব্রিজের নিচ থেকে ৮-১০ বছরের একটি শিশুর কাটা মাথা উদ্ধারের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় মামলা হয়।

হাইকোর্ট এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে মো. রাজীব ওরফে গোলাম রব্বানী ওরফে শংকর চন্দ্র দেবনাথ ও মো. জাকির হোসেন ওরফে জাকিরকে খালাস দেন বৃহস্পতিবার।

হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায়, মামলার বিচার কার্যক্রমে ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, কারণ মামলার সাক্ষী পুলিশ কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিতে বিচার আদালতে হাজির হননি এবং অভিযুক্তদের তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স (নিম্ন আদালতের নথি) এবং আসামি আনোয়ার ও জাকিরের নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন।

আনোয়ার ও জাকিরের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং তৎকালীন শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এবং আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্য চার্জশিটে সাক্ষী ছিলেন। মামলা হলেও তাদের কেউই ট্রায়াল কোর্টে জবানবন্দি দিতে হাজির হননি।

তিনি জানান, সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে ৮ বছর ধরে মামলার বিচারকাজ স্থগিত ছিল। মামলা দায়েরকারী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং দুজন ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন চিকিৎসক নিম্ন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

শিশির মনির বলেন, মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পর অভিযুক্ত শংকর যিনি একজন দর্জি, যার বয়স এখন ৪২ বছর এবং জাকির (৩৭) একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তারা ২০১৬ সালের ২০ মার্চ থেকে কাশিমপুর কারাগারের ডেথ সেলে দিন কাটাচ্ছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহিন উদ্দিন আহমেদ খান।