২০০৩ সালের লঞ্চডুবিতে নিহতদের পরিবার আজও পায়নি ক্ষতিপূরণ
মেঘনা নদীতে ২০০৩ সালে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য হাইকোর্ট প্রায় ৪ বছর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তও দেওয়া হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রেখে হাইকোর্ট ২০১৭ সালে ১১০ জন নিহতের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ও আহতদের ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত একইসঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও লঞ্চ মালিক সমিতিকে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দেন।
এরপর ৫৫ মাস কেটে গেছে। কিন্তু নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। হাইকোর্টের রায়ে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকলেও এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি আপিল বিচারাধীন রয়েছে। ফলে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
২০০৩ সালের ৮ জুলাই এমভি নাসরিন-১ লঞ্চটি চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গমস্থলে ডুবে যায়। এতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান, প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ হন এবং আরও অনেকে আহত হন।
নৌযানটি প্রায় ৭০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে যাত্রার জন্য লঞ্চটি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। লঞ্চটির মালিকও এই দুর্ঘটনায় মারা যান বলে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
এই মামলার অন্যতম বাদী বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আইনজীবী জেড আই খান পান্না জানান, বিআইটিডব্লিউএ এবং মালিক সমিতি এখনো ভুক্তভোগীদের পরিবারকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। কারণ আপিল বিভাগে তাদের দায়ের করা একটি আপিল বিচারাধীন অবস্থায় আছে।
লঞ্চ দুর্ঘটনার পর চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক দুর্ঘটনার শিকার ৪০০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেন।
শিপিং অ্যান্ড ডিজাস্টার ট্রাস্টি বোর্ড তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে মৃত ও আহতদের পরিবারকে মাথাপিছু ২০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধি হিসেবে ব্লাস্ট ২০০৪ সালে তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয় দাবি করে মামলা করে। ২০১২ সালে মামলাটি সপ্তম যুগ্ম জেলা জজের আদালতে পাঠানো হয়।
৪ বছর পর আদালতের রায়ে সরকারকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়।
কিন্তু ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিক সমিতি এই রায়ের বিরুদ্ধে একটি রিভিশন পিটিশন দায়ের করে।
হাইকোর্ট এই ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএসহ সার্বিকভাবে কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৭ সালের ৫ জুন পিটিশনটি নাকচ করে দেন এবং নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রাখেন।
বিআইডব্লিউটিএ ও মালিক সমিতি যুগ্মভাবে ২০১৯ সালে আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার জন্য একটি লিভ-টু-আপিল পিটিশন দায়ের করে।
অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান