৪র্থ স্ত্রীকে হত্যার ১৫ মাস পর ৩য় স্ত্রীসহ স্বামী গ্রেপ্তার
গত বছর ২১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানার রহমানবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। ১৫ মাস পর এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী সোহাইল আহমেদ (৩৮) ও তার তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারিশ আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার লাকী আক্তার ওরফে পিংকী (২৫) সোহাইলের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোহাইলকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা থেকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। আর তার তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে।
উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, 'লাকী ছিলেন সোহাইলের চতুর্থ স্ত্রী। গত বছর জানুয়ারি মাসে তারা বিয়ে করেন এবং "রেজাউল করিম" নাম নিয়ে রহমানবাগে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। লাকির মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করলে ভুয়া পরিচয়ের বিষয়টি ধরা পড়ে।'
পুলিশ জানায়, লাকীর আগে সোহাইল আরও ৩টি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রীকে তিনি বাগেরহাটে ও তৃতীয় স্ত্রী নাহিদাকে পতেঙ্গা এলাকায় বাসা ভাড়া করে রেখেছিলেন।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ঘটনার আগে ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় রহমানবাগের বাসায় যান সোহাইলের তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা। ওই দিন লাকীর সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সোহাইল তাকে মারধর করলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে লাকীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সোহাইল ও নাহিদা পালিয়ে যায়।
পরে ২১ জুলাই ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির কেয়ারটেকার পুলিশে খবর দেয়। পরে রান্নাঘরে বিছানার চাদর মোড়ানো অবস্থায় লাকীর মরদেহ পাওয়া যায়। হালিশহর থানায় মামলা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।