৪ দিন আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আদালতে মামলা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ৪ দিন আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার উত্তর পাড়সাওতা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে রাসেল আহম্মেদ (২৫), একই এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে হেলাল শেখ (২৮) ও মৃত উকিল শেখের ছেলে আলিমান শেখ (৩২)।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূকে উত্যক্ত করে আসছিলেন রাসেল আহম্মেদ। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। গত ২৬ মার্চ ৬ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দাদাবাড়িতে যাওয়ার পথে অস্ত্রের মুখে রাসেল, হেলাল শেখ ও আলিমান মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়। তারা এসময় শিশুটিকে চড় দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। গৃহবধূকে কুমারখালী একটি গ্রামের বাড়িতে হাত, পা ও মুখ বেঁধে চার দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে আসামিরা। গত ৩১ মার্চ কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে আসেন ওই গৃহবধূ।
ভুক্তভোগী নারী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এ ঘটনায় গত ১ এপ্রিল বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও পুলিশ কয়েক ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রেখে জানায় মামলা গ্রহণ করা যাবে না।
পরে গত ৩ এপ্রিল কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা গ্রহণের আবেদন করেন ভুক্তভোগী নারী। আদালত কুমারখালী থানা পুলিশকে মামলা নেওয়ার জন্য আদেশ দেন এবং ৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আদালতের নিদের্শে থানায় একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
কেন মামলা নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জটিল মনে হয়েছে তাই আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন মনে করেছি।