৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সন্তানের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী । তার ৮ মাসের সন্তানের জন্মগতভাবে হৃদপিণ্ডে ছিদ্র আছে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা। স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারে গিয়ে তারা বিত্তবান পর্যটকদের কাছে সাহায্য চাইতেন। অপরাধী চক্রের হোতা আশিক এটা জানতে পেরে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

আলোচিত এই ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি মো. আশিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব আজ সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানিয়েছে। ঢাকায় কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, চাঁদা না পেয়ে গত ২২ ডিসেম্বর লাবনী বিচ এলাকার রাস্তা থেকে ওই নারীকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান আশিক ও তার সহযোগীরা। ধর্ষণের পর জিয়া গেস্ট ইনে আটকে রেখে ওই নারীর স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন আশিক। তাকে আটকে রেখে আশিক হোটেল থেকে বের হয়ে যান। দুই দিন পর তিনি ঢাকায় এসে আত্মগোপন করেন। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, আশিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ ১২টি মামলা আছে। ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন হোটেলে ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজসে পর্যটকদের ফাঁদে ফেলে তিনি ব্ল্যাকমেইল করতেন। তার চক্রের ৩০-৩৫ জন সদস্য সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের হেনস্তা, মোবাইল ছিনতাই ও নারীদের উত্ত্যক্ত করার সঙ্গে জড়িত। তিনি কক্সবাজারে পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন রকম জবরদখল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত।