৫ টাকা ভাড়ার জন্য রিকশাচালক ও পথচারীকে পিটিয়ে আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

রিকশা ভাড়া ৫ টাকা কম দেওয়ায় রিকশাচালক সেটা দাবি করায় পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে স্বপন মৃধা নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় জাকারিয়া নামের এ যুবক প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয়েছে। 
 
আজ সেমবার সকালে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট অটোস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন, সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের গেরাখালী গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের ছেলে রফিক হাওলাদার ও পৌর শহরের থানা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মীর দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মীর জাকারিয়া। তাদের দুজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় আহত অটোরিকশা চালক রফিক হাওলাদারের ভাই নাসির হাওলাদার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করছেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

৩ জনের নাম উল্লেখ করে পটুয়াখালী সদর থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মৃধা বাড়ি এলাকার স্বপন মৃধা সকালে শহরের পৌরসভা মোড় থেকে রফিক হাওলাদারের অটো রিকশায় হেতালিয়া বাঁধঘাট যান। পরে তিনি অটো রিকশা চালককে ১০ টাকা ভাড়া দেন। রফিক আরও ৫ টাকা দাবি করলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপন এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে রফিক হাওলাদারের পা ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় মীর জাকারিয়া নামে এক পথচারী প্রতিবাদ করায় তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার মাথায় জখম হয়েছে। এ সময় মিজান মৃধা ও সবুজ মৃধা নামে আরও দুজন সন্ত্রাসী গিয়ে জাকারিয়া ও রফিকুলকে পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এ বিষয়ে আহত রফিক হাওলাদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি অটো চালাইয়া খাই। ৫ টাকার জন্য পিডাইয়া আমার পাও ভাঙছে। আমারে বাঁচাইতে আইলে এক ভাইরেও মাইরা মাথা ফাডাইছে, আমি এর বিচার চাই।'

এ ব্যাপারে স্বপন মৃধার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আহত জাকারিয়া বলেন, 'এই সমাজে ৫ টাকার জন্য একজন অটো চালককে মারধর করা হবে, এটা ঘৃণিত কাজ। এর প্রতিবাদ করায় আমাকেও মেরে হাসপাতালে পাঠালো। এর থেকে দুঃখজনক আর কিছু নেই। আমি আইনের কাছে ওই অপরাধীদের বিচার চাই।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি, পুলিশ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।'