৬১ দিন পর জামিন পেলেন বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা সরকার

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ৬১ দিন কারাভোগ ও নিম্ন আদালত থেকে ২ বার জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর অবশেষে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকার।

আজ সোমবার হাইকোর্ট রুমা সরকারকে বিচারিক আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ছাড়া, এ মামলায় রুমা সরকারকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

মামলায় রুমার জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রুমার প্রধান আইনজীবী জেডআই খান পান্না দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হাইকোর্ট তার মক্কেলকে জামিন দিয়েছেন কারণ তিনি একজন নারী। তার দুটি ছোট ছোট সন্তান রয়েছে এবং মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে ভুগছেন।'

আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী লাবনী আক্তার ও শাহিনুজ্জামান শাহিন। 

জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও মিথ্যা ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে রুমা সরকারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।

তার আগে গত ১৯ অক্টোবর রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৯ অক্টোবর রুমা তার ফেসবুকে রাজধানীর পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী শাহীন উদ্দিনকে হত্যার একটি ভিডিও পোস্ট করেন এবং দাবি করেন যে ভিডিওটি নোয়াখালীর যতন কুমার সাহার ওপর হামলা, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু মন্দিরে হামলা হলে যতনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

১৬ মে শাহীন উদ্দিনকে তার ছেলের সামনে একদল অপরাধী কুপিয়ে হত্যা করে এবং হত্যার ঘটনার কয়েকদিন পর একজন প্রাক্তন সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি ফেসবুক লাইভে এসে উসকানিমূলক তথ্যও ছড়িয়ে দেন বলে মামলার নথিতে বলা হয়েছে।