‘ইঞ্জিনিয়ার আইসে ইঞ্জিনিয়ার যায়, হামার ব্রিজ আর হয় না’

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

রত্নাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী না করায় ক্ষুব্ধ লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দায়িত্ব অবহেলায় সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ফলে বর্ষায় তাদেরকে চলাচলের জন্য আবারও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

মেঘারাম গ্রামের কৃষক কাদের আলী (৬০) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ইঞ্জিনিয়ার আইসে ইঞ্জিনিয়ার চলি যায়, কিন্তু হামার ব্রিজটা আর হয় না। হামাকগুলাক শুধু আশার গল্প শোনায়। ইঞ্জিনিয়ার আসি হামাকগুলাক কয়, এই মাসে ব্রিজ কমপ্লিট হইবে, সামনের মাসে ব্রিজ কমপ্লিট হইবে, কিন্তু বছরের পর বছর পার হয়া গেলেও ব্রিজ আর হবার নাইগছে না।'

তিনি আরও বলেন, 'ব্রিজটা কমপ্লিট না হওয়ার জইন্যে হামরাগুলা খুব কষ্টোত আছোং। ম্যালা দুর ঘুড়িয়া হাট-বাজার যাবার নাগে। হামারগুলার কষ্ট তো আর ইঞ্জিনিয়ার বুঝে না।'

দুড়াকুটি গ্রামের কৃষক মনীন্দ্র নাথ রায় (৬৫) বলেন, 'হামারগুলার সাথে কনটাকটোর আর ইঞ্জিনিয়ার তামশা খেলবার নাইগছে। সাড়ে ৬ বছর থাকি হামাকগুলাক এ কথা কয়া ও কথা কয়া ঘুইরবার নাইগছে। ব্রিজখান আর করি দিবার নাইগছে না।'

'ব্রিজখানের কাজ যদি কোনো রকমে হইলে তা ফির রাস্তা হয় নাই। এই ব্রিজ দিয়া হামরা চলাচল কইরবার পাবার নাইকছোং না,' যোগ করেন তিনি।

এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, এলজিইডির অধীনে ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে রত্নাই নদীর ওপর ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ মিটার প্রস্থের সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০১৮ সালের মে মাসে সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন করার চুক্তি হয় ঠিকাদার গোলাম রব্বানীর সঙ্গে।

বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদার সেতুটির নির্মাণকাজ ১০ দফা পিছিয়ে নেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে সেতুটির মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফিনিশিং ও রঙের কাজসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ বাকি রয়েছে।

ঠিকাদার এ পর্যন্ত ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রত্নাই সেতুটি নির্মাণে চরম গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার। দীর্ঘদিনেও সেতুটি চলাচলের উপযোগী না করায় এখনো নৌকায় পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদেরকে। নৌকায় প্রতিবার প্রতিজনের ৫ টাকা, বাইসাইকেলের ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ২০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।

মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অনেক তাগাদা দিয়ে সেতুটির অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে না। এ ব্যাপারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। এলজিইডির ৩ জন নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি হলেও এখনো সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হয়নি।'

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদের এলাহী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভূমি জটিলতার কারণে সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গেছে। বর্ষার আগে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় ঠিকাদারকে এখনো সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়নি।'