এটা একটি কালভার্ট: দোকান উঠেছে, সংযোগ সড়ক হয়নি ১৮ বছরেও
সংযোগ সড়ক না থাকায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় দেড় যুগ আগে তৈরি একটি কালভার্ট এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। শেষ কয়েক বছর ধরে কালভার্টের ওপর দোকান উঠিয়ে চলছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম।
এদিকে কালভার্টটি ব্যবহার করতে না পেরে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপজেলার দক্ষিণ গাংকুল গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবার।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্য ইকবাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে তৎকালীন সরকার বড়লেখা উপজেলার গাংকুল গ্রামকে আদর্শগ্রাম ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ গাংকুল ও খন্দকার টিলা এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য দক্ষিণ গাংকুল গ্রামে ঢোকার মুখে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কালভার্টটি নির্মাণ করে।
ইকবাল হোসেনের ভাষ্য, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হলে এর সংযোগ নির্মাণের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ জন্য কালভার্টের ২ পাশে মাটির ভরাটের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু মাটি ভরাট নিয়ে স্থানীয় দুটি পরিবারের আপত্তির কারণে ওই কাজ আটকে যায়। বরাদ্দের টাকাও ফেরত চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিক আহমদ বলেন, 'কালভার্টের নিচের সড়কটি বছরের ৬-৭ মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে। তখন বাধ্য হয়ে গ্রামের মানুষদের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা ঘুরে বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়।'
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলামের অভিযোগ, স্থানীয় গফুর আলী ও হারু মিয়া কালভার্টের ২ পাশে মাটি ভরাট করতে দেননি। কিন্তু গফুর আলীর পরিবারের লোকেরা ৭-৮ বছর ধরে কালভার্টের ওপর দোকান উঠিয়ে ব্যবসা করছেন।
সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা মেলে। দেখা যায়, কালভার্টের ওপরেই দোকান উঠিয়েছেন গফুর আলী ভাতিজা জয়নুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়নুল বলেন, 'কালভার্টটি আরও কয়েক হাত দক্ষিণে সরিয়ে তৈরির কথা ছিল। কিন্তু এটা এখানে তৈরি করায় আমাদের কিছু জমি নষ্ট হয়ে যায়। তাই এর ২ পাশে মাটি ভরাট করতে দেওয়া হয়নি।'
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী প্রিতম সিকদার জয় ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কালভার্ট কারো বাধায় অকেজো পড়ে থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এছাড়া সরকারি কোনো স্থাপনার উপর দোকান তৈরিরও নিয়ম নেই।'
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মোদাচ্ছির বিন আলী বলেন, 'এত বছরেও কেন কালভার্টটির সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি তা তদন্তের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।'