করোনাভাইরাস: বেনাপোল বন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় অবহেলার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেনাপোল

ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে বেনাপোল বন্দর ও চেকপোস্টে সতর্কতামূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভারতীয় ট্রাকচালক ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। 

তাদের অভিযোগ, বন্দর এলাকায় ট্রাকচালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ১০ হাজারের মতো বন্দর ব্যবহারকারী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন। ভারত থেকে আসা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও সেটি মনিটরিং করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। 

আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসীর মুখে মাস্ক নেই। আমদানি করা পণ্য বোঝাই ট্রাক রেখে তারা বন্দরের ভেতর ও বাইরে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বেলা ১২টার দিকে এই প্রতিনিধি ২ ভারতীয় ট্রাকচালক- দেবনাথ দাস ও বিশ্বজিৎ দাসের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। তারা বলেন, 'বন্দর থেকে আমাদের মাস্ক দেওয়া হয়নি।'

জিরো পয়েন্ট দিয়ে আমদানি করা পণ্য নিয়ে যেসব ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে প্রবেশ করছে সেসব ট্রাকে জীবাণুনাশক কোনো স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও জানান তারা। 

মেডিকেল টিমের কোনো সদস্যকেও জিরো পয়েন্টে দেখা যায়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বেনাপোল স্থল বন্দরের ডেপুটি ডিরেক্টর আব্দুল জলিল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে জীবানুনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা আছে। ট্রাকচালক ও হেলপারদের মাস্ক ব্যবহারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিন্তু তারা মানছেন না। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে এখন থেকে শুধু ট্রাকচালক ভারতীয় ট্রাক নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করবে, কোনো খালাসীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।'

এ প্রসঙ্গে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ বলেন, 'ভারত থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রবেশের আগে মাস্ক ব্যবহার ও সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ইমিগ্রেশনের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।'

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে বেনাপোল চেকপোস্ট ও বন্দর এলাকায় একটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাদের দেহে তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যাচ্ছে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।