লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের পাকা ধান পানির নিচে

দ্বিগুণ মজুরিতেও মিলছে না শ্রমিক
এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

অনবরত বৃষ্টির কারণে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের পাকা বোরো ধান পানির নিচে। এ সব ধান কাটার জন্য দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ায় হতাশ কৃষক।

অনেকে নিজেরাই কষ্ট করে এ সব ধান কাটছেন। তবে অধিকাংশ এলাকায় পাকা ধান খেতেই পড়ে আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছে, চলতি বছর লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে প্রায় ২ লাখ ত্রিশ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই নিম্নাঞ্চলে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেখানকার পাকা ধান তলিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী গ্রামের কৃষক নাদেরুল ইসলাম সরকার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। প্রায় ৮ বিঘা জমি নিম্নাঞ্চল হওয়ায় সেগুলো এখন পানির নিচে। প্রায় ৭ বিঘা জমির ধান কাটতে পারলেও পানিতে নিচে ৮ বিঘা জমির ধান এখনো কাটতে পারিনি।'

lalmonirhat_ripe_paddy-01_copy.jpg
লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার শরপুকুর গ্রামের নিচু জমির পাকা ধান পানির নিচে চলে গেছে। ছবি: এস দীলিপ রায়

'সাধারণত প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকরা ১২ শ টাকা থেকে ১৩ শ টাকা চুক্তি করেন' উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু, পানির নিচে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে তারা নিচ্ছেন আড়াই হাজার টাকা থেকে ২৬ শ টাকা। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।'

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নির্মল চন্দ্র বর্মণ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জমির ধান পাকলেও শ্রমিক অভাবে তা কাটতে পারছি না। উঁচু জমির পাকা ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও এ বছর শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। কিন্তু, পানির নিচে পাকা ধান কাটতে তারা সমস্যায় পড়েছেন।'

'অতীতে বোরো ধান কখনই পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পরিবারের লোকজন নিয়ে পানির নিচে প্রায় ৬ বিঘা জমির পাকা ধান কাটছি। দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমস্যা হচ্ছে।'

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর গ্রামের কৃষক লাভলু মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রায় ৭ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিকরা প্রতি বিঘা জমির ধান আড়াই হাজার টাকা চুক্তিতে কাটছেন। এ বছর ধান চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছি। বৈরি আবহাওয়া, অধিক মজুরি ও তেল-সার-কীটনাশকের বেশি দাম আমাদের হতাশ করেছে।'

একই গ্রামের কৃষিশ্রমিক দিদার হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'উঁচু জমিতে এক বিঘা জমির ধান কাটতে যে সময় লাগে তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি সময় লাগে পানির নিচের ধান কাটতে। সারাক্ষণ পানিতে নেমে ধান কাটলে অসুস্থ হয়ে পড়ি।'

'দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় এ বছর আমরা মজুরিও বাড়িয়ে দিয়েছি। তারপরও যা আয় করছি তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। ধান কেটে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ টাকা ৬০০ টাকা রোজগার হচ্ছে।' যোগ করেন তিনি।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিদুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে জমির ধান কাটতে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। নিম্নাঞ্চলে পানিতে নিমজ্জিত ধান কাটতে কৃষকরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।'

বৃষ্টি না থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বোরো ধান কাটা শেষ হবে বলেও জানান তিনি।