টেবিলে বসার কারণে সেবাগ্রহীতাকে মারধরের অভিযোগ পাসপোর্ট অফিসের ডিডির বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা

কুমিল্লার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে চেয়ার দিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ওই কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. নুরুল হুদার বিরুদ্ধে।

এদিকে মারধরের ভিডিও ধারণ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার আঞ্চলিক পাসপোর্টে কার্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মো. সাকিব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হোমনা থেকে সকালে পাসপোর্টের জন্য গিয়েছিলাম। ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর পা ব্যথা হয়ে যাওয়ায় আমিসহ আরও কয়েকজন অফিসের খোলা জায়গায় রাখা একটি টেবিলে বসি। এ সময় উপপরিচালক নুরুল হুদা সেখানে এসে কোনো কিছু না বলেই চেয়ার দিয়ে আমাদের এলোপাতারি মারধর শুরু করেন।'

পাসপোর্ট অফিসটিতে বসার তেমন কোনো সুব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধরের সময় সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী রকিবুল ইসলাম রানা ও মো. সাফি ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে তাদের ফোন কেড়ে নেন ওই কর্মকর্তা।

রাকিবুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে সকাল ১১টার কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসে যাই। আমার সঙ্গে ছিলেন মো. সাফি। সেখানে টোকেন সংগ্রহ করে পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় ভেতরে হট্টগোল শুনে এগিয়ে যাই। দেখি পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক নুরুল হুদা চেয়ার দিয়ে কয়েকজনকে মারধর করছেন। এ সময়ে সাফিকে বলি মোবাইল দিয়ে ভিডিও ফুটেজ নিতে। ভিডিও করতে দেখে নুরুল হুদা এগিয়ে এসে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।'

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কান্তি ধর ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান পুলিশের একটি দলসহ উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।'

কুমিল্লার সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ছিনিয়ে নেওয়ার ৩ ঘণ্টা পর মোবাইল ফেরত দেন নুরুল হুদা।

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপপরিচালক মো. নুরুল হুদাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।

তবে মোবাইল ফোন আটকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'অনুমতি না নিয়ে ভিডিও ধারণ করায় মোবাইল ফোন আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মোবাইল ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।'