ঠিকাদারের অবহেলায় সেতুর কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে ৫ ইউনিয়নের মানুষ
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কের একটি সেতু নির্মাণের কাজ। কাজের ৪৫ শতাংশ এখনো বাকি আছে। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে ৫ ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের।
নির্মাণাধীন সেতুটির পাশে বিকল্প কাঠের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সেতু না থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যে।
সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার একে অপরকে দায়ী করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
শুলকুর বাজার এলাকার সেকেন্দার আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঠিকাদার আর এলজিইডি অফিসের দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ আছে। এলাকার মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।'
যাত্রাপুর এলাকার মিরাজ আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কাজ শেষ না হওয়ায় সেতুর উত্তর পাশের জমিতে পানি আটকে আছে। গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খুব ক্ষতি হচ্ছে। শহর থেকে মালামাল নিয়ে হেঁটে কাঠের সেতু পাড়ি দিতে হচ্ছে।'
২০১৮ সালের জুলাইয়ে 'পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ' প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কের শুলকুর বাজার এলাকায় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এর সময় সে বছরের জুন-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তারপরও কাজ শেষ না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়।
এ পর্যন্ত সেতুটির মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৪২ লাখ টাকার বিল তুলেছে।
সেতু নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-আমিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী গোলাম রব্বানী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'টেন্ডারের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছে কুড়িগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরা অ্যান্ড আবু বকর জেভি। তাদের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ নিয়ে আমি সেতুটি নির্মাণ করছি। তবে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর অসহযোগিতার কারণে সময়মতো কাজ শেষ করতে পারিনি।'
মেসার্স বসুন্ধরা অ্যান্ড আবু বকর জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কে এম বদরুল আহসান মামুন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাব-কন্ট্রাক্টরের অবহেলা ও কিছু জটিলতার কারণে সেতুর কাজ সময়মতো শেষ হয়নি। কাজের চুক্তিপত্র বাতিল হয়ে গেছে।'
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সময়মতো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ শেষ করতে না পারায় চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর বিধি মোতাবেক চুক্তিপত্র বাতিল করা হয়েছে। গোলাম রব্বানী নামে কোনো ঠিকাদারের সঙ্গে এলজিইডির কাজের চুক্তি নেই। পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ঠিকাদার নিয়োগ করে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।'