ডেইলি স্টারে প্রতিবেদনের পর নতুন ঘর পেলেন সোনা উল্ল্যাহ
৭৩ বছর বয়সী সোনা উল্ল্যাহর স্বপ্ন ছিলো নতুন একটি ঘরের। যেখানে তিনি অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। বৃষ্টিতে তাকে আর রাত জাগতে হবে না। অবশেষে তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
নতুন ঘর পেয়েছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার স্বেচ্ছাশ্রমে ট্রাফিক কন্ট্রোলার হওয়া ৭৩ বছর বয়সী সোনা উল্ল্যাহ।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজারহাট উপজেলার পুটিকাটা মাল্লিরপাড় গ্রামে ৩ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি রুম, একটি কিচেন, একটি বাথরুম ও একটি টয়লেটের সেমিপাকা বাড়িটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজধানীর ইশতিয়াক এ চিশতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘর সোনা উল্ল্যাহর হাতে হস্তান্তর করেন।
গত ১১ আগস্ট সোনা উল্ল্যাহকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল দ্য ডেইলি স্টারে। প্রতিবেদনটি পড়ে ইশতিয়াক এ চিশতি, তার কয়েকজন বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী মিলে তহবিল সংগ্রহ করে সোনা উল্ল্যাহর জন্য ঘর নির্মাণ করে দেন।
সোনা উল্ল্যাহ তার স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে সঙ্গে নিয়ে যে ঘরটিতে বসবাস করতেন সেটির অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না। বৃষ্টি এলেই তাদের রাত জাগতে হতো। তার ২ ছেলে দিনমজুর। তাদের আলাদা সংসার আছে। সোনা উল্ল্যাহ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৫ বছর রিকশা চালিয়েছেন। পরে, শরীরে আর না পারায় তিনি গ্রামে ফিরে যান। গত ৭ বছর ধরে তিনি রাজারহাট উপজেলা শহরের চৌরাস্তা মোড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কাজ করছেন। পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে বকশিশ হিসেবে প্রতিদিন ১২০-১৫০ টাকা পান। তার স্ত্রী গ্রামে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। যা আয় হয় তা দিয়ে খাবার কিনতে হয়। এছাড়া, বসবাসের ঘরটি মেরামতের সামর্থ্য ছিলো না তাদের।
সোনা উল্ল্যাহ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব। এমনটি একটি বাড়ির স্বপ্ন দেখতাম। এভাবে আমার স্বপ্ন পূরণ হবে কখনোই ভাবতে পারিনি। আমাদের দেশে এখনো অনেক উদার মানুষ আছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতা পাচ্ছি। শারীরিক অক্ষমতা বাড়ছে তারপরও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজটি করে যাচ্ছি।'
ইশতিয়াক এ চিশতি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '৭৩ বছর বয়সী সোনা উল্ল্যাহকে নতুন বাড়ি দিতে পেরে আমরা খুশি। ডেইলি স্টারে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছিলাম। সোনা উল্ল্যাহ ও তার স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সোনা উল্ল্যাহর মতো অনেক মানুষ এদেশে আছে। সমাজের বৃত্তবানদের উচিৎ তাদের পাশে দাঁড়ানো।'