তীব্র গরম, জমিতে বেশি সময় দিতে পারছেন না কৃষক

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

আষাঢ় মাসে গরমের এত তীব্রতা এর আগে কখনো অনুভব করেননি মাঠের কৃষি শ্রমিকরা। গরমের কারণে টানা এক ঘণ্টাও ক্ষেত্রে কাজ করতে পারছেন না তারা। কিছু সময় পরপর গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। এ কারণে আয়ও কমেছে তাদের।

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের কৃষকদের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার সেলিমনগর গ্রামের কৃষক সেতার আলী (৪৭) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আষাঢ় মাসে এত গরম কখনো অনুভব করিনি। বৃষ্টি না হওয়ায় এত গরম। গরমের কারণে মাঠে ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। টানা এক ঘণ্টা মাঠে কাজ করলে গরমে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কাজ ফেলে রেখে গাছের তলায় বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।'

farmer_hot.jpg
গরমে কৃষি শ্রমিকদের অধিকাংশ সময় বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। ছবি: দিলীপ রায়/স্টার

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মিয়াবাড়ি গ্রামের কৃষি শ্রমিক আলী হোসেন (৫০) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখন রোপা-আমন চাষের মৌসুম। আমরা জমিতে চুক্তিতে রোপা আমনের চারা লাগাই। গত বছর ৫ জনের একটি দল যৌথভাবে কাজ করে প্রতিদিন ৬ বিঘা জমিতে আমনের চারা লাগিয়েছি। কিন্তু এ বছর গরমের কারণে ৩ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।'

প্রতি বিঘা জমিতে আমন চারা রোপণ করতে তারা ৮০০-৮৫০ টাকা চুক্তি করেন বলে তিনি জানান।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার শালমারা গ্রামের কৃষিশ্রমিক মফিজ উদ্দিন (৪৪) বলেন, 'গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। চুক্তি অনুযায়ী মাঠে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় মজুরিও কম পাচ্ছি।'

farmer_hot.jpg
গরমে শরীর পুড়ে যাচ্ছে কৃষকের। ছবি: দিলীপ রায়/স্টার

একই গ্রামের কৃষক নুর আলম (৬০) ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই গরমে দিনমজুরি চুক্তিতে কৃষিশ্রমিক নিয়ে পোষানো যাচ্ছে না। তাই কাজের চুক্তিতে শ্রমিক নিচ্ছি। গরমের কারণে কৃষকরা মাঠে টিকতে পারছেন না।'

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের তত্ত্বাবধায়ক সবুর আলী আজ বুধবার বিকেলে ডেইলি স্টারকে জানান, গত ৩ জুলাই থেকে এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪-৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭-২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

গত বছর এ সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭-২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত না থাকায় তাপমাত্রা উষ্ণ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।