গুলিস্তানে বাসচাপায় নিহত ২, পুলিশ চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ
রাজধানীর গুলিস্তানে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের বিপরীত পাশে শ্রাবণ ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির একটি বাসের চাপায় ২ জন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বাসটি চালাচ্ছিল পুলিশের একজন এএসআই।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বাসটি আটক করে পল্টন থানায় নেওয়া হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার আবুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।'
শ্রাবণ ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির বাসের চালক, হেলপার ও কন্ডাক্টররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শ্রাবণ পরিবহনের গুলিস্তান-মদনপুর রুটের বাসটি গুলিস্তান এলাকায় পৌঁছানোর পর এএসআই এমাদুল বাসটিকে আটক করেন।'
'এরপর তিনি যাত্রীদের নামিয়ে নিজেই বাসটি চালিয়ে আহাদ পুলিশ বক্সের কাছে আনার চেষ্টা করেন। কয়েকশ গজ চালিয়ে যাওয়ার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রিকশা ও সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দেয়। এতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন,' তারা বলেন।
গুলিস্তান এলাকার বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা পুলিশের ইউনিফর্ম পরা একজনকে গাড়িটি চালাতে দেখেছেন।
দুর্ঘটনার বিষয়ে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তবে, বাসটি পুলিশের কেউ চালাচ্ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শ্রাবণ ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের একটি বাস অ্যাক্সিডেন্ট করেছে বলে জানি। তবে, সেটা পুলিশের কেউ চালাচ্ছিল কি না জানি না।'
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গুলিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন তখনই মারা যান। সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের পুলিশ সদস্যরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।'
নিহত শুক্কুর মাহমুদ (৫৮) একজন প্রবাসী বলে জানা গেছে।
অপর আহত তুষার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবদুল খান দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।