নদীর পানি ঠান্ডা থাকায় লাশ ভেসে উঠতে সময় লেগেছে: ফায়ার সার্ভিস
নারায়ণগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবির ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বলছেন, যেখানে নৌকাটি ডুবে যায় সেখানে পানি অনেক গভীর। এ ছাড়া পানি খুব ঠান্ডা হওয়ায় মরদেহ ভেসে উঠতে বেশি সময় লেগেছে।
গত ৫ জানুয়ারি নৌকাডুবির ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হলো। ২ বছরের শিশু তাসফিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠার পর আজ বিকেল ৩টায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ। দুপুরে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আর কেউ নিখোঁজ না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়। আগামীকাল থেকে তদন্ত শুরু করব।'
বিল্লাল হোসেন নামে একজন এখনো নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হলে তিনি বলেন, 'নিখোঁজের আর কেউ কোন অভিযোগ করেনি। প্রথম তালিকায় নাম ভুল ছিল। পরে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। যদি আর কোনো লাশ ভেসে উঠে আমরা সেটা উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করব।'
ডুবে যাওয়া নৌকার ব্যাপারে তিনি বলেন, 'নৌ বাহিনীর যন্ত্র দিয়েও নৌকাটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি কালো হওয়ায় যন্ত্র দিয়েও নৌকাটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। তাছাড়া নৌকা উদ্ধারের কাজ এর মালিকের। এ বিষয়ে নৌকার মালিক ব্যবস্থা নেবেন।'
নিখোঁজের মরদেহ উদ্ধারে কেন এত সময় লাগল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'শীতে পানি ঠান্ডা থাকা প্রধান কারণ। তাছাড়া এখানে নদীর গভীরতা ৮০ থেকে ৯০ মিটার। সেখান পানি প্রচণ্ড ঠান্ডা। আমাদের ডুবুরীরা যখন উপরে উঠেছে তখন তাদের শরীর গরম করতে তেল দিতে হয়েছে। পানি ঠান্ডা হওয়ায় মরদেহ ভাসতে সময় লেগেছে।'
নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশের এসপি মিনা মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আর কারো লাশ ভেসে উঠলে নৌ-পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।'
তিনি আরও বলেন, গরমের সময় ২৪ ঘণ্টা পরই মরদেহ ভেসে উঠে। এখন শীতকাল, পানি প্রচণ্ড ঠান্ডা হওয়ায় মরদেহ ভেসে উঠতে সময় নিয়েছে।
উল্লেখ্য গত ৫ জানুয়ারি সকাল পৌনে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাট থেকে ধর্মগঞ্জ খেয়াঘাট আসার সময় 'এমভি ফারহান-৬' নামে লঞ্চের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে যায়। পরে অন্য একটি নৌকার সাহায্যে এবং সাঁতরে অনেকেই তীরে উঠতে পারলেও ১০ জন নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গত রোববার ও সোমবার দুই দিনে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এর মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় না থাকলেও এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রাতে কালিগঞ্জ থেকে 'এমভি ফারহান-৬' নামের লঞ্চটিসহ এর ড্রাইভার, মাস্টার ও সুকানীকে আটক করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরদিন এ ঘটনায় লঞ্চের ড্রাইভার জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, মাস্টার কামরুল হাসান ও সুকানী জসিম মোল্লাকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য। ওই তিন জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠান।
ঘটনার দুই দিন পর জেলা প্রশাসন সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।