নারায়ণগঞ্জে কারখানায় আগুন: ২১ দিনেও প্রতিবেদন দেয়নি তিন তদন্ত কমিটি

এগজস্ট ফ্যানের তার গলে আগুনের সূত্রপাত: ফায়ার সার্ভিস
নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত কার্যদিবসে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ২১ দিনেও তিনটি তদন্ত কমিটির কেউ প্রতিবেদন দেয়নি। তবে অতিরিক্ত তাপে কারখানার নিচ তলার এগজস্ট ফ্যানের তার গলে কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) দেবাশীষ বর্ধন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান তিনি।
দেবাশীষ বর্ধন বলেন, 'ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি এখনও তদন্ত করছেন। আশা করছি আগামী রোববার তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।'
জানতে চাওয়া হয় আগুনের সূত্রপাত কীভাবে? তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে জানা যাবে। তবে জানতে পেরেছি অতিরিক্ত তাপে কারখানার নিচ তলার এগজস্ট ফ্যানের তার গলে আগুনের সূত্রপাত হয়। আর কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পরে। আরও বিস্তারিত তদন্ত কমিটির প্রধান পরিচালক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলতে পারবেন।'
তদন্ত কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) জিল্লুর রহমানের মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 
গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ১৪ নম্বর গুদামের ৬ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান তিন জন। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিন শুক্রবার বিকেলে ৪৮ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ঘটনায় ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদি হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে এ মামলার তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আতাউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মামলার দায়িত্বগ্রহণের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তবে এখনও শুনানি হয়নি।'
তিনি বলেন, 'মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কাজ শেষ হলে উর্ধ্বতনরা আপনাদের জানাবেন।'
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যের কমিটি ও ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ৭ কার্যদিবসে দেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ৫ সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ফরিদ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তদন্তের সময় আরও ৫ কার্যদিবস বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগির প্রতিবেদন জমা দিতে পারব। ইতোমধ্যে আমাদের তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত বের করতেই আমরা কাজ করছি। যার জন্য আজকেও আমরা ঘটনাস্থলে তদন্ত করছি।'
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আরো ৭ কর্মদিবসের সময় নিয়েছেন। আশা করছি দ্রুত কাজ শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই বিস্তারিত বলা যাবে। এর আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
এদিকে ঘটনার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ আছে। কবে নাগাদ কারখানা চালু হবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় শ্রমিকেরা।
কারখানার শ্রমিক আব্দুল হাকিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কারখানা বন্ধ হওয়ায় আমরা এখন বেকার বসে আছি। কোথাও কাজ পাচ্ছি না। কবে কারখানা খুলবে সেটাও জানি না।'
এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক (হিসাব) নাহিদ মুরাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখনও বলা যাচ্ছে না কারখানা কবে খুলবে। কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎ লাইন কাটা, ফায়ার সার্ভিস তদন্ত শেষ করে যখন অনুমতি দেবে তখনই চালু হবে।'