নারায়ণগঞ্জে নৌকাডুবি: ৪ দিন পর বুড়িগঙ্গা থেকে ৬ মরদেহ উদ্ধার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জে নৌকা ‍ডুবির ঘটনায় ৪ দিন পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, জেসমিন আক্তার (৩৫), তার মেয়ে তাসমিম (১৫), সাব্বির মিয়া (১৮), জোসনা বেগম (৩৩), মোতালেব (৪২) ও আওলাদ (২৫)। 
 
নিহতরা সবাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী এলাকার চর মধ্যনগরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তাদের মধ্যে জেসমিন, তাসমিম, সাব্বির ও জোসনা বেগমের ভাসমান মরদেহ আজ সকালে ডেক্কিরচর এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করেন।

আজ বিকেলে ধর্মগঞ্জ ঘাট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে একই নদীতে মোতালেব ও আওলাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, 'আজ সন্ধ্যায় লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'স্বজনদের দাবি, এ ঘটনায় আরও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।'

ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তারা ডুবে যাওয়া নৌযানটির সন্ধান পেয়েছেন এবং আগামীকাল সকালে নদী থেকে সেটি তোলার কাজ শুরু করবেন।

গত ৫ জানুয়ারি প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি যাওয়ার সময় এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায়। বেশিরভাগ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ১০ জন নিখোঁজ হন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার এবং আহতদের ১০ জন্য হাজার করে টাকা দেওয়া হবে।

ঘটনার তদন্তে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত ফেরদৌসের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান ডিসি।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার কামরুলসহ ৩ জনকে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে নেওয়া হলে আদালত তাদের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।