পদ্মায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজের ২৫ দিন পর আরেক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরে পদ্মা নদীতে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ২৫ দিন পরে আলমগীর হোসেন (৪০) নামে আরেক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার রাতে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, পদ্মায় মরদেহ ভাসতে দেখে আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এরপর নৌ পুলিশ ও জাজিরা থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে জাজিরার মঙ্গল মাঝি সাত্তার মাতবরের ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। আলমগীর ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ইকরা মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুস সালাম শেখ।
মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মঈনুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে জাজিরা থানায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাহাবুবুর রহমান আরও বলেন, আলমগীরের স্ত্রী জোবায়দা জেসমিন জেবা তার স্বামীর বুকে নীল রঙের জন্মদাগ দেখে পরিচয় শনাক্ত করেছেন। এরপর মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষক একটি ট্রলার ভাড়া করেন। তারা প্রথমে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের চাঁদের বিল ঘুরে পদ্মা নদী দিয়ে মদনখালী এলাকায় যান। ফেরার পথে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ট্রলারটি ডুবে যায়।
ওই ট্রলারে ১৫ জন শিক্ষক ও ট্রলারে মাঝি ছিলেন। দুর্ঘটনায় ২ জন নিখোঁজ হন। গত ১ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নাওডুবি গ্রামে পদ্মার পাড় থেকে আজমল হোসেন শেখ নামে আরেক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আলমগীরের ভাতিজা মো. জিয়াউল হক জানান, আজ রাত ১১টায় চর মাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে বাড়ির পাশে আলমগীরের দাফন সম্পন্ন হবে।