বঙ্গোপসাগরে স্পিডবোট ডুবে নিহত ১, যমজ বোনসহ নিখোঁজ ৩
ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ-কুমিরা রুটে ২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। বুধবার সন্দ্বীপের উপকূলের অদূরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী শিশু আনিকা মারা গেছে এবং তার দুই যমজ বোনসহ ৩ জন নিখোঁজ আছে।
নিখোঁজ ৩ জন হলো- নিহত আনিকার যমজ বোন আদিবা ও আরিফা এবং ১০ বছরের সৈকত।
আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পায়নি উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজ যমজ বোনদের বয়স জানা যায়নি।
কুমিরা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. একরাম উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আনিকাকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপের একটি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার যমজ বোন আদিবা এবং আরিফা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নৌকায় ছিল। স্পিডবোটটি সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট থেকে সন্দ্বীপ গুপ্তাছড়া ঘাটের দিকে যাওয়ার সময় সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা বলেন, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।
গুপ্তাছড়া ঘাটের ইজাদার আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্পিডবোটটি খারাপ আবহাওয়া, প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ডুবে যায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা থাকলেও স্পিডবোট মালিক-শ্রমিকরা তা মানছেন না।
এর আগে, ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে একটি নৌকা ডুবে ১৮ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। বৈরি আবহাওয়া এবং জোয়ারের ঢেউয়ের কারণে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছিল।
গত বছর, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদকে (সিডিসি) হাইকোর্টের রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে বুধবার ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি এবং কাল বৈশাখীর খবর পাওয়া গেছে।