বাবার মরদেহ শনাক্তের অপেক্ষায় ১৩ বছরের নাহিদ
বাবার মরদেহ নিতে এসেছে ১৩ বছরের শিশু মির্জা নাহিদ হোসেন। হতবিহ্বল চেহারা তার। চোখেমুখে বিষন্নতা।
ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া নাহিদ রাজধানীর সোয়ারিঘাটে জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মনির হোসেনের ছেলে। মনিরের বাড়ি চাঁদপুরে।
জুতার কারখানায় কাজ করে মা, ২ বোন ৩ সন্তান ও স্ত্রীর খরচ চালাতেন মনির হোসেন। ১৩ বছর বয়সে জুতার কারখানায় কাজ শুরু করেন মনির। ১৭ বছর ধরে ওই কারখানায় কাজ করতেন তিনি। বেতন স্বল্প হওয়ায় পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে রেখে ঢাকায় একাই থাকতেন মনির। আজ তারই ১৩ বছরের ছেলে মরদেহ নেওয়ার জন্য সকাল থেকে অপেক্ষয়মান।
নাহিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতকাল রাত ৮টার সময় বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়। বাবা আমাকে ভালোভাবে পড়াশুনা করতে বলেন। আগামীকাল শনিবার বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল।'
মনির হোসেনের শ্যালক আলী হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '৮ জনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন মনির। তাদের পরিবারে আর কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য নেই। ৭ জনের পরিবারের এখন একমাত্র ভরসা নাহিদ।'
পুলিশের বরাত দিয়ে আলী হোসেন বলেন, 'আগামীকাল মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা আছে।'