মেঘনায় লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে ১ জনের মরদেহ উদ্ধার
মেঘনা নদীতে লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের নিখোঁজ শ্রমিক মো. মোতালেব মিজির (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ।
মোতালেব মিজি ভোলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ গ্রামের রফিজুল হক মিজির ছেলে। তিনি বাল্কহেডটিতে লস্কর হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার ৬৪ ঘণ্টা পর আজ শনিবার বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের চর কিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে অর্ধেক ডুবে থাকা বাল্কহেডের ভেতর থেকে মোতালেবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুন্সিগঞ্জের কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক উদয় বাবু দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ৪ জন ডুবুরী মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শনিবার বিকাল ৩টায় নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের স্বজনেরাও এখানে আছেন। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হবে।
গত বুধবার রাত ১১টায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী সুরভী-৭ লঞ্চের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকার ডেমরাগামী বালুবাহী বাল্কহেড ডুবে যায়। বাল্কহেডে থাকা ৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ৪ জন সাঁতরে তীরে উঠে এবং আরেকজন লঞ্চে উঠতে সক্ষম হলেও একজন শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন।
কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মো. জহিরুল হক জানান, শুক্রবার সকালে সুরভী-৭ লঞ্চের মালিকপক্ষ কলাগাছিয়া থানায় মামলা করেছেন। বাল্কহেডের ধাক্কায় লঞ্চের ক্ষতি ও যাত্রীদের যাত্রা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের ৪ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া দারুল মাকাম-৩ জাহাজটির মালিক ডেমরার মোহাম্মদ সুমন। আইন অমান্য করে বাল্কহেডটি রাতে নদীতে চলছিল।
তিনি আরও জানান, বাল্কহেডের সুকানি সবুজ (৩২), গ্রিজার মো. আক্তার (১৮), বাবুর্চি আব্দুল খালেক (৬৫) ও লস্কর ইমরানকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক লস্কর মো. হৃদয় (১৮) পলাতক আছে। ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটি থেকে বালু সরিয়ে নদীর তীরে আনা হবে। এটি নৌ-পুলিশের হেফাজতে থাকবে।