লঞ্চে আগুন: এবার নিখোঁজ যাত্রীর স্বজনের মামলা ঝালকাঠিতে

নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর

সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় ঝালকাঠিতে মামলা দায়ের করেছেন নিখোঁজ যাত্রীর স্বজন। আজ মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার ডেমরা এলাকার ইট-বালু ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন (৩৮) বাদী হয়ে গতকাল দিবাগত রাতে দণ্ডবিধির ২৮০, ২৮৫, ২৮৭, ৩০৪ (ক) ও ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন। এতে লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ, মাস্টার মো. রিয়াজ সিকদার ও মো. খলিল, সারেং মো. মাছম ও কালাম, সুপারভাইসার মো. আনোয়ার, সুকানি আহসান, কেরানি মো. কামরুলসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া, অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মনির হোসেন আরও উল্লেখ করেন, তার বোন তাসলিমা আক্তার, ভগ্নিপতি সুমন সরদার, ভাগনি সুমাইয়া আক্তার মিম ও সুমনা আক্তার তানিসা এবং ভাতিজা জোনায়েদ ইসলাম বায়জিদ ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অভিযান-১০ লঞ্চে বরগুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাসলিমা মোবাইল ফোনে জানান, লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে আগুন ধরে গেছে। ইঞ্জিন রুমের আগুন সমস্ত লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা মনে হয় আর বাঁচবো না। এরপর তাসলিমার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমি ঝালকাঠিতে আসি কিন্তু তাদের সন্ধান লাভে ব্যর্থ হই। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দগ্ধ ৩৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। আমি তাদের মধ্যেও আমার স্বজনদের শনাক্তের চেষ্টা করি। অগ্নিদগ্ধ ১২টি মরদেহ শনাক্তের যোগ্য ছিল।

মনির আরও উল্লেখ করেন, যাত্রী এবং লঞ্চ কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি ইঞ্জিনের ত্রুটির বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আগুন লাগার পরে অনুরোধ জানানো হলেও লঞ্চটি ঘাটে নেওয়া হয়নি। মামলার এজাহারে ৪ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।