লঞ্চ কর্মচারীদের অবহেলায় এত প্রাণহানি, অভিযোগ স্বজনদের
কর্মচারীদের অবহেলায় আগুনে পুড়ে যাওয়া 'এমভি অভিযান-১০' লঞ্চে এত বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন পুড়ে যাওয়া লঞ্চের হতাহতদের স্বজনরা।
আজ শনিবার বহু নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনরা ট্রলারে করে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এ অভিযোগ করেন।
বরগুনার তালতলী উপজেলার নাসির উদ্দিন গিয়েছিলেন দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ হওয়া বোন ও ভাগ্নীকে খুঁজতে।
এ সময় ট্রলার নিয়ে তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে বিষখালী নদীর তীরে চরকাঠীতে যান। আগুন লাগার পর সেখানকার চরে প্রথম লঞ্চটি বন্ধ হয়ে যায়।
নাসির দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, লঞ্চটি চরকাঠীতে একটি গাছকে জোরে ধাক্কা দিয়ে সেখানে আটকে যায়। পাশেই আরেকটি বড় গাছ ছিল। তখনই যদি লঞ্চটিকে একটি দড়ি দিয়ে ওই গাছের সঙ্গে আটকানো হতো, তাহলে জ্বলন্ত অবস্থায় সেটি নদীতে আরও প্রায় এক ঘণ্টা ভাসত না। আর প্রাণহানির ঘটনাও এত ঘটত না। তখন অধিকাংশ যাত্রীরাই নিরাপদে সেখানে নেমে যেতে পারতেন। তবে সেটি না করে সেখান থেকে লঞ্চের সব কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। ফলে জোয়ারের তোড়ে লঞ্চটি বিপরীত দিকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেসে একই উপজেলার দিয়াকুল গ্রামে সুগন্ধা নদীর চরে গিয়ে আটকে পড়ে। লঞ্চটি নদীতে থাকার সময় পুরোপুরি একটি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়।
এ দুর্ঘটনার পর বরগুনার শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি নাসিরের।
লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ আরও দুই স্বজনকে খুঁজতে ঝালকাঠিতে আসেন জসিম ফকির। তারও দাবি লঞ্চটিকে প্রথমে চরকাঠিতে আটকানো হলে, এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না।
দুর্ঘটনার পর কত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেনি প্রশাসনের কেউ।
তবে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্টের ঝালকাঠি শাখার যুবদের করা একটি পরিসংখ্যানে অর্ধশতাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকায় আসার পর এর ইঞ্চিনে সমস্যা দেখা দেয়। বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠিসহ ৪-৫টি ঘাট থাকলেও একটিতেও ঘাটে ভেড়েনি লঞ্চটি। সবশেষ লঞ্চটির ইঞ্চিনে আগুন ধরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরকাঠী গ্রামে বিষখালী নদীর তীড়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেখানে কৌশলে নেমে পড়ে পুরো লঞ্চের স্টাফ। এ সময় কিছু যাত্রীও সেখানে লাফিয়ে নদীতে পড়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন। এরপর জোয়ারের তোড়ে ভাসতে ভাসতে লঞ্চটি পিছনে একই উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল গ্রামে সুগন্ধা নদীর চড়ে গিয়ে আটকে পড়ে। সেখানেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় লঞ্চের ৩টি তলায় থাকা সব জিনিসপত্র। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রীরা ওই গ্রামে নেমে তাদের জীবন রক্ষা করেন।