লঞ্চ ট্রাজেডি: জিপিএ-৫ পেয়েও কান্না থামছে না হাফসার
এবারের এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুনে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারানো হাফসা বেগম। পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও সব আনন্দ যেন ভেসে গেছে চোখের পানিতে।
হাফসা এ বছর বরগুনা সদর উপজেলার কালীরতবক দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু বুকভাঙা কান্না তার থামছেই না। নানীর বুকে মাথা রেখে কেঁদেই চলেছে।
বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় লবণগোলা গ্রামের হাকিম শরীফ (৪৫) ও পাখি বেগম (৩৫) দম্পতি। দারিদ্র্যের কারণে ৪ সন্তানকে নানা-নানীর কাছে রেখে ঢাকায় আশ্রয় নেন বাবা-মা।
তাদের মধ্যে তিন সন্তান হাফছা (১৮), সুমাইয়া (১৪) ও ফজলুল হক (১০) সবাই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। ঢাকায় পাখি বেগম একটি পোশাক কারখানায় আর স্বামী হাকিম শরীফ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি নেন। স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনে কোনোমতে চলছিল তাদের সংসার। অভাবের সংসারে শুধু একটাই স্বপ্ন, সন্তানরা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে।
পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানের কেনাকাটা ও ব্যাংকে রাখা টাকা উত্তোলন করার পরিকল্পনা করে ২০ ডিসেম্বর আড়াই বছরের শিশুপুত্র নাসির উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় স্বামীর কাছে যান পাখি বেগম। টাকা উত্তোলন ও কেনাকাটা শেষে তারা বরগুনায় ফেরার উদ্দেশ্যে ২৩ ডিসেম্বর নাসির উল্লাহকে নিয়ে অভিযান-১০ লঞ্চে ওঠেন। ওইদিন রাতে লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর থেকেই নাসিরসহ নিখোঁজ রয়েছেন আব্দুল হাকিম শরীফ ও তার স্ত্রী পাখি বেগম।
ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থল থেকে ৩৭টি মরদেহ বরগুনায় নিয়ে এলে মা-বাবা ও ছোট ভাই নাসিরের ছবি নিয়ে হাফসা, সুমাইয়া ও ফজলুল হক সেখানে গেলেও খোঁজ মেলেনি তাদের।
হাফসার নানী আলেয়া বেগম জানান, 'বাবা-মা আর ছোট ভাইকে হারিয়ে তিন ভাই বোন দিনরাত কান্নাকাটি করে। এর মধ্যে হাফসা জিপিএ-৫ পেয়ে তার দুঃখ আরও বেড়ে যায়। অসহায় তিন ভাই-বোন শুধু আমাকে ধরে কান্নাকাটি করছে।'