হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও ১ জনের মরদেহ হস্তান্তর

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও একজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে নারায়ণগঞ্জের সিআইডি পুলিশ মরদেহটি হস্তান্তর করেন।

মৃত ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন ওরফে মহিউদ্দিন (১৮)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. আতাউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ডিএনএ প্রোফাইলিং ম্যাচিং করার মাধ্যমে এই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। নিশ্চিত হতে পেরে আজকে স্বজনদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রথম পর্যায়ে ৪৮টি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেখান থেকে প্রথমে ২৪টি ও পরবর্তীতে ২১টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এখনো আরও দুটি মরদেহ ডিএনএর ফলাফলের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে।'

গত ৮সেপ্টেম্বর কারখানা থেকে আরও ৫টি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। কঙ্কালগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো থেকেও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।

মৃত মহিউদ্দিনের বাবা মো. ইউসুফ ডেইলি স্টারকে জানান, তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার নাজিরপুর গ্রামে। ৩ ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় মহিউদ্দিন।

তিনি আরও জানান, মহিউদ্দিন নাটোরের একটি সেমাই তৈরির কারখানায় কাজ করত। দুর্ঘটনার দেড় মাস আগে কারখানার চার তলায় চাকরি নেয়। দুর্ঘটনার ২দিন আগেও তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল বাবার। কারাখানায় দুর্ঘটনার খবর শুনতে পেরে তিনি ওই দিনই নারায়ণগঞ্জে আসেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

মো. ইউসুফ জানান, ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ডিএনএ নমুনা দেন তিনি। গত এক সপ্তাহ আগে পুলিশ ফোন করে জানায় তার ছেলের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। মরদেহ নিতে আজ বুধবার তাকে ঢাকা মেডিকেলে আসতে বলা হয়।

তিনি বলেন, 'পরিবারের খরচ চালাতে একা খুব কষ্ট হতো। এ জন্যই ছেলে কারখানায় কাজ নিয়েছিল। দুর্ঘটনার পর থেকে ছেলের শোকে মা নুরবানু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা ছেলের মরদেহের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আজ মরদেহটি পেয়ে মনকে কিছুটা সান্ত্বনা দিতে পারছি।'

মৃত মহিউদ্দিনের চাচা মো. শাহেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজ মাগরিবের পর হাতিয়ার নাজিরপুর গ্রামে মহিউদ্দিনকে দাফন করা হয়েছে।'

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দাফন কাফনের জন্য স্বজনদের ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।