হাসেম ফুড কারখানা থেকে আরও একটি মাথার খুলি ও ৭টি হাড় উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দুই মাস পর দ্বিতীয় দফা তল্লাশিতে আরও একটি মাথার খুলি ও সাতটি হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কিছুদিন কারখানাটিতে তল্লাশি অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে কারখানার পুড়ে যাওয়া মালামালের স্তুপের নিচ থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মী ও সিআইডির সদস্যরা এগুলো উদ্ধার করেন।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '৪৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করার পর গত সপ্তাহে নিখোঁজ তিন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারের আবেদন জানান। তাদের ধারণা ছিল, যে ৪৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর হয়েছে সেখানে তাদের স্বজনের মরদেহ থাকবে। কিন্তু সেখানে না থাকায় তারা এ আবেদন করেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ও সিআইডির একটি টিম যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে কারখানার গারভেজের নিচ থেকে মাথার খুলি, চুল ও দুটি হাড় উদ্ধার করে।'
তিনি বলেন, 'এর ধরাবাহিকতায় আজকেও চতুর্থ তলায় তল্লাশি চালিয়ে একটি মাথার খুলি ও সাতটি হাড় পাওয়া গেছে। মূলত কারখানায় প্লাস্টিকের পণ্য সামগ্রী ছিল। ফলে আগুনে এ প্লাস্টিক গলে একটি স্তুপে পরিণত হয়েছে। এ প্লাস্টিকের গলে যাওয়া স্তুপ কেটে কেটে তল্লাশি করতে গিয়ে এসব খুলি ও হাড় বের হয়ে এসেছে।'
'যে স্থান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়েছে ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা ওই রুমে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে বের হতে পারেনি। যেহেতু এ দুই দিন তল্লাশি করে এগুলো পাওয়া গেছে তাই আরও কিছুদিন এ তল্লাশি অভিযান চলমান থাকবে,' বলেন তিনি।
তিনি বলেন, 'এগুলো এক ব্যক্তির নাকি একাধিক ব্যক্তির, এমনকি নারী নাকি পুরুষের এখন এসব কিছুই বলা যাচ্ছে না। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্টের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।'
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই বিকেলে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ১৪ নম্বর গুদামের ৬ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ভবন থেকে লাফিয়ে পরে তিন জন মারা যান এবং ১০ জন আহত হন। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরদিন শুক্রবার বিকেলে আগুন নিভিয়ে ফেলার পর ৪৮ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ঘটনার পর ৪ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে প্রথমে ২৬ জন ও পরবর্তীতে ২১ জনের পোড়া মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেমসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে নিরাপত্তা না থাকাসহ বিভিন্ন অবহেলার অভিযোগ এনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে এ মামলাটি তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।