৩ জেলায় ৪ পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭
রংপুরও, পাবনা ও বাগেরহাটে ৪টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ মোট ৭ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন।
আজ রোববার সকালে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার সময় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রাজেন্দ্রবাজার এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন পুলিশ কনস্টেবল তাজুল ইসলাম (৩৫)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার গোপালের খামার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। তাজুল রংপুরের পীরগাছা থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, 'আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুড়িগ্রাম থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি কর্মস্থলে ফিরছিলেন। সকাল ৮টার দিকে অজ্ঞাত কোনো গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাজুল।'
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান জানান, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ থানায় রয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং কোন গাড়ি তাকে চাপা দিয়েছে তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।'
পাবনা সদর উপজেলায় পৃথক ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। আজ সকালে পাবনা সদর উপজেলার তেলকুপি এলাকায় এবং জোতআদম এলাকায় এ ২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
২টি দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার পুটিগাড়া গ্রামের মৃত তারন আলী বিশ্বাসের ছেলে ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বিশ্বাস (৬৫), একই গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৪৫) এবং শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (১৮)।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভ্যানযোগে ধান ভাঙানোর জন্য মিলের দিকে যাচ্ছিলেন ২ জন। তেলকুপি নামক স্থানে রাস্তার মাঝে হঠাৎ ভ্যানটি ভেঙে পড়ে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক রবিউল মারা যায়। আহত অপর ২ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মোমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।'
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থকে ট্রাকটি আটক করেছে, তবে চালক পালিয়ে গেছে।
সকাল ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের জোতআদম এলাকায় শ্যালোইঞ্জিন চালিত করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক সাজ্জাদ হোসেনের মৃত্যু হয়। নিহত সাজ্জাদ পাবনার জোতআদম শহীদ রফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পাশ করেছেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিহত সাজ্জাদ মোটরসাইকেল নিয়ে টেবুনিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীতমুখী করিমনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।'
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ডাম্প ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ৩ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং অপর ২ যাত্রী আহত হয়েছেন।
কাটাখালি হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, আজ ভোররাতের দিকে খুলনা-মংলা হাইওয়েতে কাটাখালি মুনস্টার জুট মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলেই ওই ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আহত ২ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মৃত হাফিজ আব্দুল্লাহ, আব্দুল গফুর এবং সাহাবুদ্দিন সদর উপজেলার হাকিমপুর কাওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।
মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মাবুদ বলেন, 'একটি আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনের জন্য তারা খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসার দিকে রওনা হয়েছিল।'
ওসি জানান, অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ট্রাকটি শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। তবে, সেটি শনাক্ত করে জব্দ করার চেষ্টা চলছে।