হাসেম ফুড কারখানায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুড়ে যাওয়া হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস।

বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটি সম্পূর্ণ তল্লাশি করে আর কোনো মরদেহ কিংবা আগুন না থাকায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ৫১ জন নিহত হয়েছেন।

বিকেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দেবাশীর্ষ বর্ধন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভেতরে আর কোনো মৃতদেহ নেই। ভেতরে আর আগুন বা ধোঁয়া নেই। তাই আমাদের অগ্নিনির্বাপন অভিযান এখানে শেষ করছি। এখানে এখনও অনেক ধরনের দাহ্য বস্তু আছে। পরে যদি আগুনের সূত্রপাত হয় তাহলে আমরা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। পুলিশ ও কারখানার ম্যানেজারদের কাছে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে অভিযান সমাপ্ত করছি।’

আগুনে পুড়ে যাওয়া কারখানা ভবনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পঞ্চম তলার ছাদ ধসে পড়েছে। ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও বুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞরা এসে ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।’

তিনি আরও জানান, ‘ভবনটি ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমোদন নেয়নি। আমরা ভবনের ফায়ার সেফটি প্ল্যান দিয়ে থাকি। এটার কোনো প্ল্যান ছিল না। রাজউক ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েছে কিনা সেটাও নিশ্চিত না। তাই অবৈধ কিনা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে আপতত দৃষ্টিতে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’

শনিবার দুপুর থেকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৩৪ হাজার বর্গফুটে ছয় তলা ভবনের চার দিকের দেয়ালে পুড়ে কালো হয়ে আছে। জানালার কাঁচ ভেঙে নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ভবনের ভেতরে আসবাবসহ মালামাল পুড়ে ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে। নিচ তলায় ফয়েলের রোল ও প্যাকেজিংয়ের রোলগুলো থেকে বিকেল পর্যন্ত ধোঁয়া বের হচ্ছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম তলার দুই নম্বর গেটে তালা দেওয়া ছিল। নিচ তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত মেঝে ডুবে ছিল তৈলাক্ত নোংরা পানিতে।’

কারখানার ম্যানেজার (হিসাব) নাহিদ মোরাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমরা আমাদের নিরাপত্তা কর্মীদের বলে দিয়েছি যেন এখানে আর কেউ বাইরে থেকে প্রবেশ না করে। প্রবেশের গেটগুলো ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানার একটি ছয় তলা ভবনের নিচ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন উপরের ফ্লোরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর পরই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে তিন জন মারা যান। আহত হন ১০ জন। পরদিন শুক্রবার বিকেলে আগুন নিভিয়ে ফেলার পর ৪৮ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এ ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় কারখানার মালিক মো. আবুল হাসেম সহ তাঁর চার ছেলে ও ডিজিএম, এজিএম ও প্রকৌশলীসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আজ চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।