কামরাঙ্গীরচরে বিস্ফোরণ: ২ শিশুসহ একই পরিবারের দগ্ধ ৫
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আহসানবাগ সিলেটিবাজার এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন, আব্দুল মতিন (৪০), তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ময়না (৩৫), তাদের দুই মেয়ে আয়শা (৫) ও মাইশা (৯) এবং ইয়াসমিনের ভাগনে আবুল খায়ের রায়হান (২৫)।
শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মতিনের শরীরের ৯২ শতাংশ, ময়নার ৯৫ শতাংশ, আয়শার ৪৬ শতাংশ, মাইশার ৪২ শতাংশ ও রায়হানের ১৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধ রায়হান জানান, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে চাকরি করেন। তাদের বাসা কামরাঙ্গীরচর এলাকাতেই। গত রাতে তিনি ওই বাসায় মায়ের কাছে ছিলেন। রাতে আলাদা রুমে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায় এবং চারদিকে আগুন দেখতে পান। রুমের দরজাও ভাঙা অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন। পরে তারা দৌড়ে বাসায় বাইরে চলে যান। এর আগেই তাদের শরীর পুড়ে যায়।
রায়হান আরও জানান, মতিন প্রতিদিন বাসাতেই অটোরিকশা চার্জ করতেন। অটোরিকশাটি বাসার বাইরে রেখে চার্জার রুমের ভেতরে বিদ্যুতের সঙ্গে সংযোগ করতেন। সেই চার্জার থেকেই ভোরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগে কখনো ওই বাসায় এরকম ঘটনা ঘটেনি।
মতিনের শ্যালক মো. মাসুম জানান, খবর পেয়ে ভোরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। মাইশা একটি মাদ্রাসায় পড়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই বাসায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ করা হতো।’
‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এ জন্যই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে’, বলেন তিনি।