‘আমরা সভা-সমাবেশের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করেছি, স্থগিত নয়’
নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩২টি সভা-সমাবেশ পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
আজ শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমরা বলেছি, যে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অকার্যকর। কিন্তু জনস্বার্থ ও প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের এই সমাবেশগুলোর তারিখ পুনঃনির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
এ অবস্থায় নতুন নির্ধারিত সময়ে সভা-সমাবেশ করার জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলার নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পুনঃনির্ধারণের অর্থ স্থগিত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা বলেছি যে, আমরা তারিখটা পুনঃনির্ধারণ করেছি। আমরা স্থগিত বলিনি।'
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ১১টি ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তাতে উন্মুক্ত স্থানে যে কোনো সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতির দাবিতে দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৪০ জেলায় ৮ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির। এরমধ্যে ৮টি জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে প্রথম ধাপে একই দাবিতে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৩ জেলায় সমাবেশ করে বিএনপি।
গত ১৩ নভেম্বর থেকে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়া রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'সিটি করপোরেশ নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে, হাটবাজার, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ সব খোলা থাকতে পারে। যেখানে বিশেষষজ্ঞরা বলছেন যে, উন্মুক্ত স্থানে সংক্রমনের সম্ভাবনা কম, বদ্ধ স্থানে বেশি, সেখানে সরকার বদ্ধ স্থানে অনুমতি দেয়, উন্মুক্ত স্থানে দেয় না।'
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, 'মূল উদ্দেশ্যটা হলো আমাদের আন্দোলনের যে কর্মসূচিটা চলছিল সেটাকে তারা প্রথমে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে নানাভাবে শক্তিপ্রয়োগ করে, ১৪৪ ধারা জারি করে। আপনারা সাংবাদিকরা দেখেছেন সব কিছু। আমরা ১৫ দিন আগে চেয়েছি জায়গা, দুইদিন আগে অনুমতি দিয়েছে। পরের দিন হঠাৎ করে তাদের কোনো এক অঙ্গসংগঠন বা তাদের দল একটা চিঠি দিলো বা চিঠিও দেয়নি, ফেইসবুকে দিয়েছে। সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে দিয়েছে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক হরণের যেসব কাজ সবই করছে তারা।'
সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, 'একদিকে ১১ দফার একটা সরকারি নির্দেশনা আছে। অপরদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আরও আরও অনেক কাজ উন্মুক্ত আছে। সরকারের বিধিনিষেধের সাথে নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান সাংঘর্ষিক।'
তিনি আরও বলেন, 'এই মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেনি যে, সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এটা স্থগিত করার। সুতরাং এটা যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ব্যাপারে সন্দেহ থাকার আর কোনো কারণ নাই।'
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, 'আপনারা দেখেছেন যে, ডয়েচে ভেলের একটি সার্ভে হয়েছে। সেই সার্ভেতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—এটা কী সরকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্তে করার জন্য করেছে, নাকি স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য করেছে?'
'সেই সার্ভেতে ৮৮ শতাংশ মানুষ বলেছে যে, এটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য করা হয়েছে।'
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।