আমিরাতে বাংলাদেশি নিহত

রাত ১০টার সেই কথা বলা হলো না সালেহ উদ্দিনের

মিন্টু দেশোয়ারা
মিন্টু দেশোয়ারা

রাত ১০টার দিকে ভাইদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৫৫)। শেষ ভয়েস রেকর্ডে সেই কথাটুকুই বলেছিলেন তিনি। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ১০টা ছোঁয়ার আগেই চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায় তার কণ্ঠ। 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ছোড়া একটি মিসাইলে নিহত হন সালেহ উদ্দিন। পরদিন রোববার দুপুরে দেশে থাকা স্বজনরা তার মৃত্যুর খবর পান। 

পরিবারের সচ্ছলতা আনতে ২৭ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসেছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে সালেহ উদ্দিন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এভাবেই শেষ হলো তার দীর্ঘ প্রবাস জীবন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সালেহ উদ্দিন আজমান শহরে পানি সরবরাহের গাড়ি চালাতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় ইফতার শেষে পানি সরবরাহের একটি জরুরি অর্ডার আসে তার কাছে। জীবিকার তাগিদে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আকাশ থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে তার গাড়িতে। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত সালেহকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ছেলে আব্দুল হক কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘ইফতারের পর বাবার কাছে একটা অর্ডার এসেছিল। সেই পানি দিতে গিয়েই সব শেষ হয়ে গেল। আমরা এখন শুধু চাই বাবার লাশটা যেন দ্রুত দেশে আসে।’

গতকাল সোমবার মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সালেহর মা, স্ত্রী আর চার সন্তান আহাজারি করছেন। চার মাস আগে শেষবার দেশ থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন তিনি। কে জানত, সেটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে তার শেষ দেখা।

সালেহর ছোট ভাই জাকির হোসেনের স্ত্রী শেলি বেগম স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘২৭ ফেব্রুয়ারি শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। শনিবার রাতে কথা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এল মৃত্যুর খবর। আজমানে থাকা উনার দুই ভাই হাসপাতালে গিয়েও তাকে দেখতে পাননি।’

এদিকে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সোমবার টেলিফোনে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হলেও দূতাবাস সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’