আরবিট্রেরি ক্ষমতা আমাদের নেই, খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার যখন কোনো কাজ করে তখন আইনের মাধ্যমে কাজ করে। কোনো আরবিট্রেরি কাজ করার ক্ষমতা আমাদের নেই।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বরে ক্র্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) অভিযুক্ত হয়েছিলেন এবং পরে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। সেই মামলা কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। এই মামলাটা করা হয়েছিল ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকাকালে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১২ সালে সেটার অভিযোগপত্র দেয়। মামলা করার পর থেকে বিচারকার্য চলার শেষ পর্যন্ত তারা ১০ বারের বেশি, প্রত্যেকটা মামলায় তারা হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে গেছেন। মামলার প্রত্যেকটা বিষয়বস্তু নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে রায় আছে। তার পরে বিচারিক কার্যক্রম হয়। তারা অনেক বিচারকের বিষয়ে অনাস্থা দিয়েছেন। সেটা হাইকোর্টে গেছে, বিচারক পরিবর্তন হয়েছে। সব কিছু হওয়ার পরে রায় দেওয়া হয়েছে। প্রথমে বিচারিক আদালতে ৫ বছর কারাদণ্ড একটা মামলায় হয়েছে। তারপর হাইকোর্টে আপিলে সেটা ১০ বছর করা হয়েছে এবং পরে আরেকটা মামলায় ৭ বছর দেওয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই মামলায় তিনি যখন সাজা ভোগ করছিলেন তখন একটা দরখাস্ত এলো আমার কাছে। সরকার যখন কোনো কাজ করে তখন আইনের মাধ্যমে কাজ করে। কোনো আরবিট্রেরি কাজ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী করতে পারে বলেই তাকে (খালেদা জিয়া) সাজা স্থগিত করে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আইনে আছে শর্তযুক্ত বা শর্তমুক্ত। দুটি শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। একটা নিষ্পত্তি করা দরখাস্ত পুনর্বিবেচনা করার ক্ষমতা আমার আইনে নেই। আমি সংসদেও বলেছি, এখন যদি উনি (খালেদা জিয়া) বলেন আপনারা আমাকে যে শর্তযুক্ত ব্যবস্থা করে ছেড়ে দিয়েছেন সেটা আমি মানি না। আমাকে জেলে নিয়ে যান, আমি আবার দরখাস্ত করবো। তখন তিনি আবার দরখাস্ত করতে পারেন। এই অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোথাও নেই তার সেই দরখাস্ত বিবেচনা করে আমরা তাকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারি।
অনেকে বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় কারো বিদেশে যাওয়ার বন্ধ করার কথা বলা নেই। আমি কখনো বলিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় বিদেশ যেতে দেওয়া যাবে না। আমি বলেছি, একবার নিষ্পত্তিকৃত দরখাস্ত আবার বিবেচনার কোনো সুযোগ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় নেই, বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, উনার অবস্থা আমি যতটুকু জানি, এভার কেয়ার হাসপাতাল তার জন্য সর্বশেষ টেকনোলজি নিয়ে এসেছে। তারা ক্যাপসুল আমদানি করেছে যার ভেতরে ক্যামেরা আছে। যেটা খেয়ে ফেললে পেটের ভেতরে গিয়ে এক্স-রে হয়ে যায়। সেটা আমদানি করে তারা তার চিকিৎসা করছে। তার শেষ শারীরিক অবস্থা কী আমি জানি না। আমি যতটুকু খবর পেয়েছি, তার কিছুটা শারীরিক উন্নতি হয়েছে। এখানে তিনি যতটুকু সম্ভব সুচিকিৎসা পাচ্ছেন। এটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি। সেখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তাদের ইচ্ছা মতো তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।