‘উল্টা-পাল্টা লিখিস না, পিঠের চামড়া রাখবো না’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন কোতয়ালকে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে নাম আসায় বিক্ষোভ করেছেন শরীয়তপুর-১ (সদর ও জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ও প্যানেল মেয়র (পৌর কাউন্সিলর-৩) বাচ্চু বেপারীর সমর্থকরা।
আজ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে শরীয়তপুর জেলা, সদর উপজেলা, পৌর আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে ইকবাল হোসেন অপু ও বাচ্চু বেপারীর সমর্থকরা প্রথমে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন।
মিছিল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেন, 'উল্টা-পাল্টা লিখিস না, পিঠের চামড়া রাখবো না'।
সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বক্তব্য রাখেন।
অনল কুমার দে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে। দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অবস্থায় ইকবাল হোসেন অপুর নাম জড়িয়ে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইকবাল হোসেন কোনো ঠুনকো ব্যাপার নয়। ইকবাল হোসেনকে ধাক্কা দিলে পড়ে যাবে এমন না। এই শরীয়তপুরে মানুষের মনের মানসকোঠায় স্থান লাভ করেছে। উন্নয়নের বরপুত্র হিসেবে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে তাকে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে তাকে। ষড়যন্ত্রকারীরা ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করেন। নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। নৌকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। আমরা খতিয়ে খতিয়ে নাম বের করে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। নেপথ্যে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব।
সাংবাদিক বন্ধুদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা সঠিক তথ্য পরিবেশন করুন। সংবাদ প্রচার করতে হলে কোনো পক্ষপাতিত্ব নয়। বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতার আশ্রয় নেবেন। আমরা ঘৃণা জানাচ্ছি তাদের প্রতি, যারা এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন করেছে। আমরা আশা করি, তারা আগামীতে বিরত থাকবে। তা না হলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। আমরা আইন হাতে তুলে নেওয়ার লোক না। ইকবাল হোসেন অপু শান্তিতে বিশ্বাস করে।
তিনি আরও বলেন, ধিক্কার জানাচ্ছি সাংবাদিকতার নামে যারা হলুদ সাংবাদিকতা করেন। আজকে শরীয়তপুরের জনতা উত্তাল হয়েছে সাংবাদিকতার নামে যারা হলুদ সাংবাদিকতা করেন তাদের বিরুদ্ধে। প্রিয় নেতা ইকবাল হোসেন অপুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ও কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সংবাদটি তথ্যবহুল না। বস্তুনিষ্ঠ না এবং সঠিক না।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ১৬ নভেম্বর রাতে শরীয়তপুরে কী হয়েছে তা সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু জানেন না। তিনি ঢাকায় ছিলেন। অথচ একটি পত্রিকায় লেখা হয়েছে তার নির্দেশে গুলি করা হয়েছে। যা মিথ্যা, বানোয়াট। সেদিন বটতলায় কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকরা কারো কাছ থেকে কোনো সুবিধা নিয়ে মিথ্যা সংবাদ করে থাকলে তা দুঃখজনক। আমরা আপনাদের কাছে আরও বস্তুনিষ্ট সংবাদ ও আচরণ প্রত্যাশা করি।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদরের তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির হোসেন কোতোয়ালের পরিবার আওয়ামী লীগর প্রার্থী জামাল হোসাইনের পক্ষে কাজ করেন। তার জের ধরে শরীয়তপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাচ্চু ব্যাপারী ও তার সমর্থকরা গত ১৪ নভেম্বর জাকিরের ভাই মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জাকির হোসেনের মা মনোয়ারা বেগম ও জাকির হোসেন। দুটি মামলায় বাচ্চু ব্যাপারীকে আসামি করা হয়েছে।