গত সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন হারিছ চৌধুরী
বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হারিছ চৌধুরী গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার চাচাতো ভাই আশিক উদ্দিন চৌধুরী।
আশিক উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, হারিছ চৌধুরী গত আগস্টে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর করোনামুক্ত হলেও সেপ্টেম্বরে সংক্রমণজনিত জটিলতায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হারিছ চোধুরীর ছবি সম্বলিত একটি পোস্টে লেখেন—'ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন'। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সাবেক এই চেয়ারম্যানের ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে স্থানীয় বিএনপি নেতারা শোক জানাতে থাকলে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু বিষয়টি জানাজানি হয়।
ভাইয়ের মৃত্যুর সময় আশিক উদ্দিন চৌধুরী নিজেও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, 'যারা জিজ্ঞেস করেছেন, তারা জেনেছেন। যেহেতু হারিছ চৌধুরীর খোঁজ-খবরের তেমন কেউ নেই, তাই বিষয়টি জানাজানি হয়নি।'
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি হারিছ চৌধুরী ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর সিলেটের কানাইঘাটে তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান বলে জানাজানি হয়। তারপর থেকে হারিছ চৌধুরীর অবস্থান নিশ্চিত ছিল না।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর হারিছ চৌধুরীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। সে বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায়ও তিনি আসামি ছিলেন।
আশিক উদ্দিন চৌধুরী জানান, 'মৃত্যুকালে হারিছ চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি যুক্তরাজ্যে তার স্ত্রী জোসনা আরা চৌধুরী, ছেলে নায়েম শাফি চৌধুরী ও মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দর্পনগরে কেউ থাকেন না।'