‘নৌকার বাইরে যায়েন না, আপনাদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না’

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটারদের নৌকায় ভোট না দিলে চরম মূল্য দিতে হবে বলে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে সবার তালিকা করা হচ্ছে। ৫ তারিখে নির্বাচনের পরে দেখা হবে, আপনাদের কেউই রক্ষা করতে পারবে না।

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মণ্ডল এ সব বক্তব্য দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এ বক্তব্যের একটি ভিডিও আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকায় একদিকে যেমন সমালোচনা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভোটারদের মধ্যে।

kushtia_pic_1_1.jpg
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মিলন মণ্ডল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

৩ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শম্পা মাহমুদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সভা করছেন।

সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মিলন মণ্ডল বলেন, 'নৌকা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে আসবেন না। আওয়ামী লীগের রক্তের সঙ্গে কেউ বেঈমানি করবেন না। কোনো রকম আওয়ামী লীগের সঙ্গে বেয়াদবি সহ্য করা হবে না।'

নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি আপনাদের দাঁড়ানো (ভোটে) ঠিক হয় নাই। হরিপুর ইউনিয়ন একমাত্র হানিফ ভাইয়ের উন্নয়নের ইউনিয়ন। আপনারা কি দিয়েছেন, যে আপনারা নৌকার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ান? আপনাদের দেওয়ার ক্ষমতা নাই, দিতেও পারবেন না। আমরা বলতে চাই, আপনারা যারা হরিপুরে বসবাস করছেন, নৌকার বিরোধিতা করছেন, শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, এটাই আপনাদের বড় ভাগ্যের বিষয়।'

ইউনিয়নের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, '৫ তারিখে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, আওয়ামী লীগ সরকার কিন্তু শেষ হবে না। আমরা কিন্তু প্রত্যেক মানুষকে চিহ্নিত করব। এমনও হতে পারে সরকারের যে উন্নয়ন হয়েছে আপনাদের ভোগ করতে দিবো না। আপনারা নৌকার বাইরে যায়েন না, আপনাদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না। আপনাদের বিপদে কেউ পাশে দাঁড়াতে পারবে না।'

'আমি সাধারণ মানুষকে চ্যালেঞ্জ করছি যদি কেউ আপনাদের উপকারে আসতে পারে, তাহলে তাকে ভোট দিবেন,' আরও বলেন তিনি।

এ বক্তব্যের বিষয়ে মিলন মণ্ডলের সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

একবার ফোন ধরার পর ডেইলি স্টারের সাংবাদিক শুনে তিনি ফোনটি বন্ধ করে দেন।

ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, 'স্বাধীন ভোট প্রয়োগ ভোটারদের অধিকার।'

তিনি নির্বাচনে শান্তি বজায় রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।