যতই চক্রান্তের জাল ফেলা হোক, সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না: রিজভী
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আরেকটি মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে সরকার উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা দিয়েছিল। এখন সেই মামলাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে সাজা দেওয়া শুরু করেছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, অবৈধ পথে ক্ষমতায় থাকা এবং ভোটারবিহীনভাবে আগামী নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করতেই একের পর এক সাজা দেওয়া হচ্ছে। আদালতে কাঁধে বন্দুক রেখে নির্দোষ বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া রাষ্ট্রের নাৎসিবাদী চেহারা বিপজ্জনকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গতকাল মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে বিএনপির ১০ জন নেতা-কর্মীকে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যে মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, ওই স্থানে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। যদি আইন-আদালত শেখ হাসিনার কব্জায় না থাকতো তাহলে এই মিথ্যা মামলায় সবাই খালাস পেত।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশেই এসব শুরু হয়েছে। পুলিশ বিরোধী দলের আন্দোলন দাবানোর জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে বানোয়াট বানোয়াট মামলা দায়ের করেছিল। এই মুহূর্তে ওই মামলায় সাজা দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দেশে-বিদেশে সরকারের অপকর্ম ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হয়ে পড়ায় জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন বিরোধী দল, বিরোধী মত অবৈধ সরকারের নানাবিধ নিপীড়নের শিকার হতে থাকবে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের এই সাজা দেওয়া। নির্বাচনের সময় পর্যন্ত এই গণধিকৃত সরকার কত যে অমানবিক আচরণ করবে এটি তার একটি অন্যতম নমুনা। বর্তমানে নির্বাচন একটি দলের জিম্মার মধ্যে রয়েছে। ভোটাররা নয়, আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই নির্বাচনী উৎসবে মেতে থাকে। কারণ একতরফা নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীনরে ক্ষমতা থাকা পাকাপোক্ত হবে এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত লোকরা আরও বেশি জালিয়াতি ও দুর্নীতি করে টাকা পাচার করতে সক্ষম হবে।
নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠিত হয় সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছায়। আওয়ামী সরকার ফলাফল ধরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। তারা সেই ফলাফলই ঘোষণা করে। আওয়ামী প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পঙ্কিল কালিমা লিপ্তের এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পরিণত করেছে।
আমি সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী—সুমন চন্দ্র, সোহেল, কাউছার, আব্দুর রহমান, লিটন, মো. জসিম, আমিনুল ইসলাম, মো. জুয়েল, মো. শহীদ, আলমগীরের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সাজা বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি। শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র ও মানবতা বিরোধী দল নিধনের চক্রান্তমূলক এই নোংরা খেলা থেকে সরে আসার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে গতকাল রাতে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তার প্রতিহিংসামূলক, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির চলমান গণআন্দোলনকে ঠেকাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি অবিলম্বে তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২ ডোজে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে ৩০ শতাংশ। করোনা শুরু হয়েছে প্রায় ২ বছর। যদি শুরুতেই উদ্যোগ নিত সরকার তাহলে প্রায় শতভাগ করোনা টিকা দেওয়া সম্ভব হতো। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই ৬০ শতাংশের উপরে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত টিকা আর করোনা সামগ্রী নিয়ে সরকার কেলেঙ্কারি ছাড়া আর কিছু উপহার দিতে পারেনি। তারা যদি সঠিক ব্যবস্থা নিতো, যদি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লোককে টিকা দিতে পারতো তাহলে করোনা মহামারি বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো সুযোগই থাকতো না।
শুধুমাত্র বিএনপির সভা-সমাবেশ ঠেকাতেই গতকাল ঘোষণা দেওয়া বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে কি না তা নিয়েই জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে এবং ১৪৪ ধারা ভেঙে সভা-সমাবেশে যোগ দিতে শুরু করেছে মানুষ। এতেই আতংকিত সরকার। যতই চক্রান্তের জাল ফেলা হোক না কেন, এই অবৈধ সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না। মামলা দিয়ে, সাজা দিয়ে, বিধি-নিষেধ দিয়ে, চক্রান্ত করে জনগণকে দাবিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।