হবিগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ, রাবার বুলেট-টিয়ার শেল নিক্ষেপ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মৌলভীবাজার

হবিগঞ্জে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় আহত হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহমেদকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। 

আজ বুধবার দুপুরে জেলা শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের সময় বিএনপির ৬-৭ জন নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুক আলী।

tds_29.jpg
বিএনপির ৬-৭ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সূত্র জানায়, সকালে শায়েস্তানগরের রাস্তায় সমাবেশ করায় বাধা দেয় পুলিশ। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। নেতাকর্মীরা যেন প্রধান রাস্তায় যেতে না পারে সেজন্য পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।

বেলা দেড়টার দিকে ব্যারিকেড ভেঙে যুবদল নেতাকর্মীরা প্রধান সড়কে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। 

পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে পিছু হটে বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ পর তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের পর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক জি কে গউছের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ডা. মোশাররফ। 

এ সময় তিনি বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশ নিয়ে চিকিৎসা করানোর দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকে আমরা হবিগঞ্জে সমাবেশ করতে এসেছিলাম। কিন্তু সরকারের নির্দেশে হবিগঞ্জের প্রশাসন আমাদেরকে সমাবেশ করতে দেয়নি। সমাবেশ আসতে বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।'

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শৈলেন চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় সমাবেশ করতে চেয়েছে। যে কারণে আমরা তাদেরকে বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।'

তিনি আরও বলেন, 'সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।'

তবে কী পরিমাণ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে তার হিসাব এখনও করা হয়নি বলে জানান তিনি।