সুস্থ, সচ্ছল তবু প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডে ছাত্রলীগ নেতার নাম
প্রতিবন্ধী ও অস্বচ্ছল না হয়েও লালমনিরহাটে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা তালিকায় নাম লিখিয়ে সরকারি ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের মাধ্যমে জেলার আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার (৩১) ভাতা নিচ্ছেন।
তিনি উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আদিতমারী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় একজন ঠিকাদার এবং গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আদিতমারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতাও করেছেন।
উপজেলা ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, মাইদুল ২০১৫-২০১৭ মেয়াদে আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ওই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও নতুন করে আর কমিটি না হওয়ায় তিনি ওই পদে বহাল আছেন।
আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেতা মাইদুলের ইস্যু করা বইয়ের নম্বর ৭৯৬। সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় তার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর আছে। ভাতা বইয়ে তাকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই ভাতা বইয়ের বিপরীতে ছাত্রলীগ নেতা ২ দফায় ১১ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন।
এই উপজেলায় অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা তালিকায় আছেন ৫ হাজার ৭৭ জন আর জেলার ৫টি উপজেলার অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় রয়েছেন ২০ হাজার ৬৬৯ জন।
ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল ইসলামের বাবা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তাদের ছেলে শারীরিক প্রতিবিন্ধী নয়। তারা পারিবারিকভাবে মধ্যবিত্ত। সংসার মোটামুটি স্বচ্ছলভাবে চলে। তাদের আরও দুই ছেলে চাকরি করেন। মাইদুল কেন এবং কীভাবে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এটা তিনি জানেন না।
আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এ কাজটি কোনোভাবেই ছাত্রলীগের জন্য সম্মানের নয়।
তিনি বলেন, 'মাইদুল একজন সুস্থ ও স্বচ্ছল মানুষ। তিনি ব্যবসা বাণিজ্য ও ঠিকাদারী কাজ করে মোটামুটি আয় রোজগার করছে। তিনি কেন এবং কীভাবে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী হয়েছেন এটা আমার জানা নেই।
তিনি জানান, তাদের কমিটির মেয়াদ শেষে হলেও এখনো নতুন কোনো কমিটি না হওয়ায় তারা এখনো ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্রলীগ কর্মী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে আদিতমারী উপজেলা শহরে একটি রাজনৈতিক দ্বন্দে প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল আহত হয়েছিলেন। চিকিৎসাকালীন নিজেকে প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখিয়ে চিকিৎসকের সনদ নেন। পরবর্তীতে সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল ইসলামের সঙ্গে শনিবার বিকেলে কথা হলে তিনি অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি সরকারের যে পরিমাণ ভাতা উত্তোলন করেছেন তা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারি চাকুরীতে প্রতিবন্ধী কোটার সুবিধা পেতে তিনি এ কাজটি করেছিলেন বলে স্বীকার করে বলেন, তিনি চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সরকারি চাকরি পাননি।
আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডলের যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল ইসলামের নামে ইস্যুকৃত অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডটি বাতিল করা হবে। আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর পরই তার ভাতা কার্ড হয়েছিল। আমি তাকে চিনতাম না, এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।