৪০ বছর ধরে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন, সেতু পাননি গ্রামবাসী
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বারোমাসিয়া নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ৬ গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু, ৪০ ফুট সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ৬ গ্রামের ওই বাসিন্দাদের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৪০ বছর ধরেই সেখানে একটি নতুন সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন গ্রামবাসী। তবে, প্রতিশ্রুতি পেলেও সেই দাবি আজও পূরণ হয়নি। এ কারণে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি করা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এর আগে, তারা নৌকায় পার হতেন।
বারোমাসিয়া নদীর কারণে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলো হলো- কান্তাপাড়া, ঝাউকুটি, চর গোড়কমন্ডল, পশ্চিম ফুলমতি, জামাকুটি এবং কলাবাগান।
বাঁশের সাঁকোটির পশ্চিম প্রান্তে আছে- পশ্চিম কান্তাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গোড়কমন্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফয়জুল উলুম মাদ্রাসা, গোড়কমন্ডল কমিউনিটি ক্লিনিক। পূর্বপ্রান্তে আছে- ফুলমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাওডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালারহাট আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ, নাওডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ ও ফুলমতি উচ্চ বিদ্যালয় ও ফুলমতি কমিউনিটি ক্লিনিক।
স্থানীয়রা জানান, সেতু নেই তাই ঝুঁকি হলেও বাঁশের সাঁকোই তাদের ভরসা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও রোগীরা। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কেউ খোঁজ রাখেনি। এসব গ্রামে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারেন না তারা। এ কারণে ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
কান্তাপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলী (৬৭) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আগে নৌকায় পার হতাম বারোমাসিয়া নদী। ১২ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। নিজেরাই চাঁদা দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি এবং প্রতিবছর মেরামত করতে হয়। নির্বাচন এলে বারোমাসিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন অনেকে। কিন্তু, নির্বাচন শেষে প্রতিশ্রুতি ভুলে যান জনপ্রতিনিধিরা।'
নাওডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, 'স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। এতে তারা সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারেন না। বারোমাসিয়া নদীতে সেতু নির্মিত না হওয়ায় পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছে এসব গ্রামের শিক্ষার্থীরা।'
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হাছেন আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বারোমাসিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করতে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। চলতি বছর সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি চেষ্টা করে যাব।'
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি'র ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আসিক ইকবাল রাজিব বলেন, 'বারোমাসিয়া নদীর ওপর ৩০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'