৪৫৭ বছরের মসজিদটি সংরক্ষণ করবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, পক্ষে-বিপক্ষে গ্রামবাসী
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম গিলাবাড়ীতে অবস্থিত ৪৫৭ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। তবে এর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন গ্রামটির বাসিন্দারা।
গত ৩০ জানুয়ারি ১৫৬৫ সালে নির্মিত এই মসজিদটি পরিদর্শন করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি দল। ওই দলের নেতৃত্ব দেন দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান হাফিজুর রহমান। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি জানান, খুব দ্রুত প্রাচীন এই মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে এনে এটিকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা গ্রামবাসীদের বলেছি যে, প্রাচীন এই মসজিদটি ভাঙা যাবে না। এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে।'
এ ছাড়া বিষয়টি নজরে রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকেও অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুঘল আমলে নির্মিত এই মসজিদটির অবস্থান ৭ শতাংশ জমির ওপর। এটি দৈর্ঘ্যে ৪২ ফুট ও প্রস্থে ১৭ ফুট। মসজিদটিতে মোট ১৩টি মিনার আছে।
সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, মসজিদটির কোনো পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ড নেই। এর সামনে আছে প্রাচীন একটি কুয়া। যা একসময় গ্রামের বাসিন্দাদের পানীয় জলের একমাত্র উৎস ছিল। গ্রামবাসী ও আশপাশের লোকজনের কাছে মসজিদটি 'পুরান জামে মসজিদ' নামে পরিচিত।
গিলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দূর-দুরান্ত থেকে অনেক মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদের ভেতরে ২ কাতারে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪০জন নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদে নিয়মিত আসা মুসল্লিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মসজিদ কমিটি মূল ভবনের সঙ্গে একটি বারান্দা বানিয়ে নিয়েছে।
কথা হয় মসজিদ কমিটির সভাপতি এরশাদ আলমের (৭৬) সঙ্গে। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'গ্রামের বাসিন্দাদের একটি পক্ষ অনেকদিন ধরেই প্রাচীন এই মসজিদটি ভেঙে নতুন মসজিদ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু আরেকটি পক্ষ তাদের বিরোধিতা করছে।'
এরশাদ আলমের অভিমত, প্রাচীন এই মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হোক।
এদিকে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ আলমের ভাষ্য, মুঘল আমলের প্রাচীন এই স্থাপনাটির রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, 'মসজিদটি না ভেঙেই কীভাবে নতুন আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করা যায় সে ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে আসা প্রতিনিধিদল এ ব্যাপারে আমাতের নির্দেশনাও দিয়েছেন।'
এই মসজিদের কাছাকাছি একটি বাড়িতে বাস করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মিয়া (৭২)। তিনি জানান, ছেলেবেলা থেকেই তিনি মসজিদটি একই অবস্থায় দেখে আসছেন। তবে তিনি তার দাদার কাছে শুনেছেন যে, মসজিদটি আরও উঁচু ছিল। পরে যা মাটির নিচে ৩ ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে।