কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের করোনা টিকাদান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সৈয়দ রেজোয়ান হায়াত এ টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আরআরআরসি কার্যালয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা এম আর ভুঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'প্রতিদিন সাত হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। মোট ৫৮টি টিকা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।'

টিকাদান উপলক্ষে আজ উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এক্সটেনশন-৪ এ এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

এ সময় আরআরআরসি সৈয়দ রেজোয়ান হায়াত বলেন, 'আজ থেকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলো। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে বয়সোপযোগী সকল রোহিঙ্গাদের পর্যায়ক্রমে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। আপাতত প্রথম পর্যায়ে ৫৫ বছর ও এর চেয়ে বেশি বয়সী ৪৮ হাজার ৬০০ জনকে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।'

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'টেকনাফের সাতটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া করা হবে। প্রথম পর্যায়ে সাত দিন টিকাদান কার্যক্রম চলবে। সাতটি ক্যাম্পের মোট সাত হাজার ৯০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে নারী তিন হাজার ৬০১ জন এবং পুরুষ চার হাজার ২৯৯ জন।'

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা হাফেজ জালাল আহমদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য রোহিঙ্গারা খুবই আগ্রহী। রোহিঙ্গাদের টিকাদান শুরু হয়েছে এমন খবরে রোহিঙ্গারা খুশি।'

টেকনাফের হ্নীলার নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে বসবাসরত রোহিঙ্গা সুলতান আহমদ, শফিক আহমেদ, সুম মোহাম্মদ, জবর মুল্লুক ও আবুল ফরাজ আজ প্রথম দিনে সিনোফার্মের প্রথম ডোজ করোনার টিকা নিয়েছেন।

জবর মুল্লুক টিকা নেওয়ার পর বলেন, 'আমার খুব ভাল লাগছে। আমরা বয়স্কদের সবার আগে টিকা দেওয়ায় সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই।'