কোভিড-১৯ টিকাদান: অনিশ্চয়তায় বিশেষ কর্মসূচি
টিকা স্বল্পতার কারণে দেশব্যাপী চলমান টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে এমন অবস্থায় সরকার ১৪ আগস্ট থেকে টিকাদানের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে।
যদিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান ছয় দিনের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। তারা আরও জানান, সেপ্টেম্বরে এরকম আরও একটি কর্মসূচি শুরু হতে পারে, যেখানে প্রথম ডোজের টিকাপ্রাপ্তদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হবে।
এরসঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিও চলতে থাকবে বলেও জানান তারা।
'শুধু এনআইডি কার্ড নিয়ে এলেই টিকা দেওয়া হবে', সরকারের এ ঘোষণার দেওয়ার পর থেকে প্রায় চার হাজার বিশেষ টিকাদান কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসেছে। গত তিন দিনে মানুষের চাপে টিকাদান কর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েন।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা তাদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়ার জন্য সেপ্টেম্বরে আরেকটি এরকম ছয় দিনের কর্মসূচি নেব।'
বর্তমান কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ছয় দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া, কিন্তু প্রথম দুই দিনেই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেছে।
অসংখ্য মানুষ দলবদ্ধ হয়ে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে আসার কারণে অনেক কেন্দ্রে কার্যক্রম শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে টিকার ডোজ শেষ হয়ে যায়।
মানুষ রাস্তায় এক মাইল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছে। টিকাদান কেন্দ্রের ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়ার জন্য মানুষ ধাক্কাধাক্কি করেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জায়গা পাওয়া নিয়ে মারামারিও হয়েছে। এ ঘটনাগুলো করোনাভাইরাসের প্রকোপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে সুপারস্প্রেডিং ইভেন্টে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও, হাজার হাজার মানুষ টিকা না পেয়েই ফিরে গেছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিটি টিকার ডোজের অভাবে স্থগিত করা হতে পারে।
শামসুল হক জানান, 'চলমান বিশেষ (পরীক্ষামূলক) কর্মসূচির আওতায় অনেকে প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন। এখন আমরা তাদের জন্য দ্বিতীয় ডোজের টিকার মজুদ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।'
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, যথেষ্ট পরিমাণ টিকার মজুদ নিশ্চিত হলে এ মাসের শেষের দিকে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হতে পারে।
যারা ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করেছেন কিন্তু এখনও ডোজ পাননি, তাদের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, 'আমরা ১৪ আগস্ট বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন আমরা পরিকল্পনা করছি যারা আগে নিবন্ধন করেছেন এবং এসএমএসের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদেরকে আগে টিকা দেওয়ার। তাদের এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।'
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ছয় দিনের পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচি তাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন-স্পট নিবন্ধন জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, 'টিকাদানের জন্য নির্ধারিত দিনের আগে তাদের নিবন্ধন করা হলে দুর্ভোগ অনেক কমে আসতো। আমরা এটির জন্য একটি পরিকল্পনা নেবো।'
দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে গত তিন দিনে অনেক গ্রামীণ এলাকায় অন-স্পট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, 'স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের তথ্যগুলো একটি এক্সেল ফাইলে নিয়ে সেগুলোকে সার্ভারে আপলোড করতে হয়েছে। এটি একটি জটিল কাজ এবং এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি।'
গ্রামাঞ্চলে ও জেলা শহরে চীনের সিনোফার্ম টিকা এবং সিটি করপোশন এলাকাতে মডার্নার ডোজ দেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৬৬ লাখ ৯ হাজার ১৪৫ ডোজ সিনোফার্ম ও ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ ডোজ মডার্ণার টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, মডার্নার ডোজের মজুদ থেকে মাত্র অর্ধেক ব্যবহার করা হচ্ছে আর বাকিটা দ্বিতীয় ডোজের জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ এই টিকাটি ভবিষ্যতে আর পাওয়া যাবে কী না সেটি নিয়ে সংশয় আছে। তবে সিনোফার্ম ডোজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে ১৫ আগস্টের মধ্যে ৫৪ লাখ ভ্যাকসিন ডোজ আসবে।
ডোজগুলোর মধ্যে ৩০ লাখ আসবে কোভ্যাক্স থেকে। চীনের সিনোফার্ম টিকার ১০ লাখ ডোজ দেশে আসবে, যেটি বাংলাদেশ সরকার কিনেছে। এছাড়াও উপহার হিসেবে সিনোফার্মের আরও ১০ লাখ ডোজ দেশে আসবে।
'আমরা চলমান টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পারবো', জানান মন্ত্রী।
নিবন্ধনের পর এসএমএসের জন্য অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মন্ত্রী বলেন, 'যখন ভ্যাকসিনের স্বল্পতা থাকে, তখন এসএমএস পাঠানো হয় না। আগামীতে আরও ভ্যাকসিন আসবে এবং আরও বেশি পরিমাণ মানুষ এসএমএস পাবেন।'
বর্তমানে কী পরিমাণ ভ্যাকসিনের মজুদ আছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, 'আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, কিন্তু আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ ভ্যাকসিনের মজুদ আছে।'
প্রতিবেদনটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান।