চাঁদপুরে করোনা রোগী কমলেও মৃত্যু কমেনি
২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল রোগীর চাপ কমলেও মৃত্যু কমেনি। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেনে ওয়ার্ডে নয় জন মারা গেছেন। তাদের দু'জন করোনা পজিটিভ ও সাত জনের উপসর্গ ছিল।
আজ সন্ধ্যায় হাসপাতালের করোনা ফোকাল পারসন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডে বেড ছাড়াও ফ্লোরেও অনেক রোগীকে রাখা হয়েছে। কোনো রোগীর অক্সিজেন সমস্যা দেখা যায়নি। ডাক্তার ও নার্স সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ২১৮ জন। এর মধ্যে ৯৩ জন করোনা পজিটিভ এবং বাকিরা করোনা নেগেটিভ।
তবে, আগের তুলনায় রোগীর চাপ কমছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চাঁদপুরের সিভিল সাজান ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দীর্ঘ ১৮ মাস চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার করোনা রোগীর চিকিৎসা সহায়তা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসেবে আমরা সরকারি বরাদ্দ পাইনি। বেসরকারভিাবে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তায় চাঁদপুরে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা চলছে।'
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ও সামান্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় চাঁদপুরে করোনার চিকিৎসায় এ পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
সিভিল সার্জন বলেন, 'স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির উদ্যোগে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। সেখানে একটি মাত্র মেশিন দিয়ে করোনা পরীক্ষা করা হয়। এতে প্রতিদিন গড়ে ১৮০টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। মাঝে করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী নোয়াখালীতে নমুনা পরীক্ষা করা হতো। বর্তমানে চট্টগ্রাম আমাদের এসব নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এজন্য প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।'
২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের করোনা ফোকাল পারসন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, 'আমাদের হাসপাতালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যাপক সংকট ছিল। কিন্তু, স্থানীয়ভাবে আমরা অনেকের কাছ থেকে মাস্ক, হ্যান্ড সেনিটাইজার, ব্লাড প্রেশার মেশিন, অক্সিমিটার, অক্সিজেন, কনসেন্টেটরসহ বিভিন্ন সামগ্রী পেয়েছি। এমনকি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে নিরপত্তার জন্য সাময়িকভাবে পাওয়া ছয় জন আনসার সদস্যর বেতন ভাতাও স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছে।'
সিভিল সার্জন অফিস জানায়, চাঁদপুরে এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ৩৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ১২ হাজার ৭৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।