স্থানীয়দের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু
করোনা রোগীদের চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সুবিধা চালু করেছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের স্থানীয় জনগণ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন লাখ মানুষের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা কেন্দ্র বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে, করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে ব্যাহত হচ্ছিল চিকিৎসা সেবা। অবশেষে স্থানীয়দের উদ্যোগে সেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বীরগঞ্জ উপজেলায় অন্তত ৪৮০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীও ছিলেন। এছাড়া, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশকিছু চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা বলেন, 'স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র আটটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল। যা ক্রমবর্ধমান করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১৯ জুলাই আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার বিষয়ে জানতে পারি।'
'এরপর কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সহায়তা নির্মাণে অভিজ্ঞ একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর তারা ১৬ লাখ টাকার হিসাব দেন। এরপর তহবিল সংগ্রহের জন্য ২৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাত্র পাঁচ দিনে ১৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। এরপর ৫ আগস্ট থেকে সংস্থাটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করে।'
জাকারিয়া জাকা আরও বলেন, 'পাঁচ দিনের মধ্যে ৫০ শয্যার সঙ্গে অক্সিজেন সংযোগ দেওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়। ৩৬০ কেজি অক্সিজেনের একটি রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়েছে, যা আপগ্রেডযোগ্য।'
বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মহসিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডসহ চারটি ওয়ার্ড রয়েছে। তবে, কোভিড পরিস্থিতির কারণে অক্সিজেনের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। এছাড়া, স্ত্রীরোগ ও কার্ডিয়াকসহ জটিল রোগীদের এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য ওয়ার্ডের রোগীদেরও জরুরি অবস্থায় অক্সিজেন সহায়তার প্রয়োজন ছিল। বিদ্যমান রিজার্ভার দিয়ে টানা ২০ দিন অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হবে।'
গত ১১ আগস্ট দিনাজপুর-২ (বীরগঞ্জ ও কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সহায়তা কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। স্থানীয়দের এই প্রচেষ্টাকে চমকপ্রদ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জনগণ চাইলে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। সরকার এটা করতে পারেনি কারণ এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু জনগণ এটা করেছে।'
অন্যদিকে, দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস কুদ্দুস ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটি দেশের একটি বিরল ঘটনা। এখনো অনেক জেলা হাসপাতাল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সহায়তা পায়নি।'
এই পদক্ষেপ উপজেলার জনগণের মধ্যে এক আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।